প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের বড় জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে ম্যাকাই টেস্টে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই দিনের মধ্যেই ইনিংস ব্যবধানে জিতে সিরিজ ১-১-এ ড্র করেছে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের শেষ ম্যাচটি দ্রুত শেষ হলেও তৃতীয় দিনে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভবিষ্যতে আরও টেস্ট খেলার আশাও জানিয়েছেন তিনি।
ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের পেসার শরীফুল ইসলামকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন ক্যারি। ওয়ানডে সিরিজেও তাঁর বোলিংয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান এই ক্রিকেটার বলেন, ‘ওয়ানডে সিরিজে তাকে আমরা দেখেছিলাম। ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে সে ৬ উইকেট নিয়েছিল। এখানে এসেও একই কাজ করেছে। সে দারুণ বোলিং করেছে। বাংলাদেশের সব পেসারই এই সিরিজে অনেক ভালো বল করেছে। শরীফুল নিজের বোলিংয়ের পুরস্কারটা পেয়েছে প্রথম দিনেই। সিরিজজুড়ে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। প্রথম ইনিংসে আমাদের ব্যাটাররা ২০০-এর বেশি রান করে ভালো লিড এনে দিয়েছিল। হ্যাঁ, শরীফুল অনেক ইম্প্রেসিভ ছিল।’
দুই দিনের মধ্যেই টেস্ট শেষ হয়ে যাওয়াকে অবশ্য অস্বাভাবিকভাবে দেখছেন না ক্যারি। তাঁর মতে, ম্যাচের দৈর্ঘ্য নয়, দলের কাজ হচ্ছে নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে জয় নিশ্চিত করা। ক্যারি বলেন, ‘আসলে দারুণ টেস্ট ম্যাচ ছিল। আমার টেস্টের পঞ্চম দিনের অনেক ভালো স্মৃতি আছে, আবার দুই দিনের টেস্ট ম্যাচেও ভালো স্মৃতি আছে। ভিন্ন কিছু নয়। আমাদের কাজ পারফর্ম করে ম্যাচ জেতা। দুই দিন হোক, তিন বা চার দিন হোক, আমরা খুশি।’
ডারউইন টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোয় অস্ট্রেলিয়া দলের প্রশংসাও করেছেন ক্যারি। তিনি বলেন, ‘আমার পয়েন্ট অব ভিউ হচ্ছে, আমরা প্রথম টেস্টে সব দিকেই আউটপ্লেড হয়েছিলাম। এখানে বাউন্স ব্যাক করেছি এবং কাজটা ভালোভাবে শেষ করেছি। ২০০-এর বেশি রান করেছি, আরও বেশি করতে পারতাম। আমরা এগুলো বুঝতে পারছি। বোলিংও অনেক ভালো হয়েছে। পরের টেস্টের আগে কিছুটা সময় আছে, প্রায় এক মাসের মতো। সবাই উন্নতি করতে চায়।’
দলে পরিবর্তন আসবে কি না, সে বিষয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে চাননি ক্যারি। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচকদের বলে জানিয়েছেন তিনি। ক্যারির ভাষায়, ‘দল নিয়ে পরিবর্তনের ব্যাপারে নির্বাচকেরা ভাবছেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারছি না। অস্ট্রেলিয়ান গ্রুপ হিসেবে প্রথম টেস্ট ম্যাচের পর আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, তা নিয়ে গর্বিত। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ অনেক ভালো একটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল, এখানে আমরা বাউন্স ব্যাক করেছি।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আগস্টে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতাও উপভোগ করেছেন ক্যারি। ডারউইন ও ম্যাকাইয়ের ভেন্যু নিয়েও সন্তুষ্ট তিনি। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে সেখানে আরও সাদা বলের ক্রিকেট আয়োজন করা হবে।
‘আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট ম্যাচ খেলা দারুণ। আগে হয়তো এমন সময়ে বিদেশে খেলা হতো। এবার দেশে খেলেছি। দারুণ কিছু ভেন্যু, ডারউইন দারুণ স্টেডিয়াম ছিল। এখানের পিচও বেশ ভালো ছিল। আশা করি সামনে আরও সাদা বলের ম্যাচ হবে এখানে।’


