ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে পাশে দাঁড়ালেন প্যাট কামিন্স

কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিতে এবার সমর্থন জানালেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের চলমান উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ইমরান খান যেন একজন মানুষের প্রাপ্য মর্যাদা ও যথাযথ চিকিৎসা পান।

সম্প্রতি ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠান ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কদের স্বাক্ষর ছিল ওই চিঠিতে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও একই ধরনের আবেদন জানিয়েছিলেন ১৪ সাবেক অধিনায়ক। তবে সেই আবেদনের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এবার সেই উদ্যোগের সঙ্গে যোগ দিলেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক কামিন্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলের একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের সঙ্গে তিনিও এই দাবিতে সমর্থন জানাচ্ছেন।

কামিন্স আরও বলেন, আদালতের নির্দেশে ইমরান খানের যে চিকিৎসা মূল্যায়ন হওয়ার কথা, সেটি যেন যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সুযোগ অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, প্রত্যেক মানুষের মতো ইমরান খানও সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আচরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির একটি কারাগারে বন্দী রয়েছেন ইমরান খান। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় চিকিৎসার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ইমরানের পরিবারের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসার দাবি জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে তাকে সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে নেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া প্যাট কামিন্সই প্রথম সক্রিয় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। এর মধ্যেই ইমরানের ছেলেেদের একটি সাক্ষাৎকার প্রচারের ঘটনায় স্কাই স্পোর্টসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

তবে পাকিস্তান সরকার ইমরানকে কারাগারে নির্যাতন বা পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের দাবি, বন্দী হওয়ার পর থেকে পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের মাধ্যমে ইমরানের সঙ্গে ৯০০টিরও বেশি সাক্ষাৎ হয়েছে।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles