লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা ছিল ইংল্যান্ডের বোলারদের দাপটের। অলিভার রবিনসন ও জোফরা আর্চারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১১০ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। ফলে প্রথম ইনিংসে ১৮০ রানের লিড পেয়েছে ইংল্যান্ড। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮১ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের চেয়ে ২৬১ রানে এগিয়ে থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবে ইংল্যান্ড।
দিনের শুরুতে ৯ উইকেটে ২৪৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ইংল্যান্ড। শেষ উইকেট জুটিতে গাস অ্যাটকিনসন ও জশ টাং ৪৭ রান যোগ করে দলকে ২৯০ রানে পৌঁছে দেন। অ্যাটকিনসন ৪৫ রান করে আউট হলেও টাং অপরাজিত থাকেন ৩০ রানে।
এরপর বল হাতে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান রবিনসন ও আর্চার। শুরুতেই শান মাসুদকে ফিরিয়ে দেন আর্চার। এরপর ৯২ মাইল গতির বাউন্সারে আবদুল্লাহ শফিককে চাপে রাখেন তিনি। ১৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে মধ্যাহ্নভোজে যায় পাকিস্তান।
অধিনায়ক হিসেবে দলে ফেরা বাবর আজমও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মাত্র ৮ রান করে জশ টাংয়ের বলে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর রবিনসনের সুইং ও সিম মুভমেন্টের সামনে টিকতে পারেননি সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুজনকেই এলবিডব্লিউ করেন ইংলিশ পেসার।
অন্যদিকে ৯২ থেকে ৯৪ মাইল গতির বাউন্সারে পাকিস্তানি ব্যাটারদের ক্রমাগত চাপে রাখেন আর্চার। শেষ পর্যন্ত উসমানকে বোল্ড করে উইকেটের খাতা খোলেন তিনি। তবে আজান আওয়াইস এক প্রান্ত আগলে রাখেন। ১০৬ বল মোকাবিলা করে ৪৬ রান করেন এই ওপেনার। শেষ পর্যন্ত রবিনসনের বাউন্সারে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
এরপর রবিনসন একই ওভারে খুররম শাহজাদকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের লেজ গুটিয়ে দেন। শেষ উইকেট হিসেবে মোহাম্মদ আব্বাসকে বোল্ড করে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ করেন আর্চার। ৩৭.২ ওভারে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
রবিনসন ১৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট, যার মধ্যে ছিল ছয়টি মেডেন। আর্চার ১১.২ ওভারে ২৬ রান দিয়ে শিকার করেন ৩ উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। বেন ডাকেট দ্রুত ফিরে যান। এরপর জর্ডান কক্সকে এলবিডব্লিউ করেন খুররম শাহজাদ। তবে এমিলিও গে ও জো রুট মিলে ৪৭ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। শেষদিকে রুটও মোহাম্মদ আলীর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন।

আলো স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা শেষ হলে ৩ উইকেটে ৮১ রান নিয়ে দিন শেষ করে ইংল্যান্ড। এমিলিও গে ৩০ ও হ্যারি ব্রুক ৭ রানে অপরাজিত আছেন। ফলে ম্যাচে এখন স্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ ইংল্যান্ডের হাতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
ইংল্যান্ড: ২৯০ & ৮১/৩
- আব্বাস ৪/৭৩, শাহজাদ ২/২৬
পাকিস্তান: ১১০
- আজান আওয়াইস ৪৬
- রবিনসন ৪/১১, আর্চার ৩/২৬
ইংল্যান্ড এগিয়ে: ২৬১ রানে
দিন শেষ: ইংল্যান্ড ৮১/৩
- এমিলিও গে ৩০*, হ্যারি ব্রুক ৭*


