ব্রেভিসের ব্যাট ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকার দাপুটে জয়!

ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৪৫ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৮ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ব্রেভিসের। মাত্র ৩২ বলে ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন তিনি।

১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস ও জর্ডান হারম্যানের উদ্বোধনী জুটিতে ৩২ রান আসে। ১৩ বলে চারটি চারে ২২ রান করা প্রিটোরিয়াসকে পঞ্চম ওভারের শেষ বলে ফিরিয়ে দেন ব্র্যাড ইভান্স। তার বিদায়ের সময় দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ৬১ রান।

এর আগে জর্ডান হারম্যান ১৩ বলে ২০ রান করে তৃতীয় ওভারে আউট হন। তার ইনিংসেও ছিল চারটি চার। দ্রুত রান তোলার পর দুই ওপেনার ফিরে গেলেও দক্ষিণ আফ্রিকার রান তোলার গতি একটুও কমেনি।

ক্রিজে থাকা ব্রেভিস এরপর ম্যাচকে কার্যত একপেশে করে দেন। টনি ডি জর্জির সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। ডি জর্জি ১৭ বলে ১৫ রান করে ১১তম ওভারের শেষ বলে ব্লেসিং মুজারাবানির শিকার হন। তখন দক্ষিণ আফ্রিকার রান ১০৭।

এরপর আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি ব্রেভিস। রুবিন হারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ১৬ বলে প্রয়োজনীয় আরও ৩৯ রান তুলে ফেলেন তিনি। ব্রেভিসের ব্যাট থেকে আসে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কা। ৩২ বলের ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট ছিল অবিশ্বাস্য ২৩৪.৩৮।

ব্রেভিসের পাশাপাশি রুবিন হারম্যান ৭ বলে অপরাজিত ১১ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার। শেষ পর্যন্ত ১৩.৪ ওভারে ১৪৬ রানে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত হয় তাদের।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে। শুরুতে বেন কারানের দ্রুতগতির ব্যাটিং জিম্বাবুয়েকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যায়। ১২ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ২৪ রান করেন তিনি। তবে পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ডুয়ান ইয়ানসেনের বলে আউট হয়ে যান কারান। দলীয় ৪৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

এরপর ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্স মিলে ইনিংস এগিয়ে নেন। মায়ার্স ১৭ বলে ১৭ রান করে ১১তম ওভারের প্রথম বলে বিয়র্ন ফর্টুইনের বলে আউট হন। কিছুক্ষণ পর বেনেটও ৩৫ বলে ৩৪ রান করে প্রেনেলান সুব্রায়েনের শিকার হন। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা।

৮০ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি আরও কমে যায়। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ১৭ বলে ১০ রান করে ১৫তম ওভারে এথান বোশের বলে ক্যাচ দেন। রায়ান বার্লও ৭ বলে ৪ রান করে সুব্রায়েনের দ্বিতীয় শিকার হন। ১৫.১ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৯৪ রানে ৫ উইকেট।

তবে শেষদিকে তাদিওয়ানাশে মারুমানি এসে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। মাত্র ১৩ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। একটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩০.৭৭। মারুমানির দ্রুত রান জিম্বাবুয়েকে ১৪০-এর কাছাকাছি পৌঁছে দেয়।

১৮.৬ ওভারে মারুমানি আউট হওয়ার সময় জিম্বাবুয়ের রান ছিল ১৩৭। পরের বলেই ওয়েসলি মাধেভেরেকে ১২ রানে হারায় তারা। শেষ ওভারে আরও একটি উইকেট পড়ে—ব্র্যাড ইভান্স ২ বলে ৪ রান করে ডুয়ান ইয়ানসেনের তৃতীয় শিকার হন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৪৪ রানেই থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস।

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ডুয়ান ইয়ানসেন। ৪ ওভারে ৪৫ রান খরচ করলেও তিনটি উইকেট নেন তিনি। প্রেনেলান সুব্রায়েন ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে দুটি উইকেট শিকার করেন। এথান বশ ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন এবং ১৪টি ডট বল করেন। ফর্টুইন ও মাফাকা একটি করে উইকেট নেন।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles