অবশেষে শিরোপা পুনরুদ্ধার কল আর্জেন্টিনা নারী হকি দল। ২০২৬ হকি বিশ্বকাপের ফাইনালে আজ নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ৬০ মিনিটে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। পরবর্তীতে পেনাল্টি শুট-আউটে আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্যবধানে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করে। এর আগে সর্বশেষ ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের নজির গড়েছিল আর্জেন্টিনা নারী হকি দল।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনের ঐতিহাসিক ওয়াগেনার হকি স্টেডিয়ামে ব্লকবাস্টার ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই পরাশক্তি আক্রমণাত্মক হকি খেলতে থাকে। প্রথমার্ধে নেদারল্যান্ডস তাদের চেনা মাঠে বলের নিয়ন্ত্রণে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ছিল একেবারেই নিরেট।
ওলন্দাজদের গতিশীল আক্রমণকে রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনা কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে ফিল্ড গোল আদায় করে। এর কিছুক্ষণ পরেই নেদারল্যান্ডস তাদের পেনাল্টি কর্নার বা চমৎকার দলীয় আক্রমণ থেকে গোলটি পরিশোধ করে ম্যাচ সমতায় ফেরায়।
ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে উভয় দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে দুই দলের গোলরক্ষক এবং ডিফেন্ডারদের দুর্দান্ত দৃঢ়তায় নির্ধারিত ৬০ মিনিটে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-১ সমতায় ম্যাচটি পেনাল্টি শুট-আউটে গড়ায়।
হকির নিয়ম অনুযায়ী পেনাল্টি শুট-আউটে প্রতিটি দলের খেলোয়াড়রা গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল করার জন্য ৮ সেকেন্ড সময় পান।
হকির নিয়ম অনুযায়ী পেনাল্টি শুট-আউটে প্রতিটি দলের খেলোয়াড়রা গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল করার জন্য ৮ সেকেন্ড সময় পান।
ট্রাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। নেদারল্যান্ডসের প্রথম সারির স্ট্রাইকারদের নেওয়া শটগুলো তিনি ঠেকিয়ে দেন, যার ফলে ওলন্দাজরা মাত্র ১টি গোল করতে সক্ষম হয়।
বিপরীতে আর্জেন্টিনার (যাদের ডাকনাম লাস লিওনাস) পেনাল্টি টেকাররা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ডাবলিং করে নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন। শুট-আউটে নিখুঁতভাবে ৩টি গোল করে লাস লিওনাসরা। চার শটে নেদারল্যান্ডসরা মাত্র ১টি গোল করতে সক্ষম হয়। এতে ৩-১ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।
এই জয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ২০২২ সালের ফাইনাল হারের প্রতিশোধও নিলো লাস লিওনাসরা।


