অবসর ভেঙে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তান জাতীয় দলে ফিরেছিলেন মোহাম্মদ আমির। তবে বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি পাকিস্তান। চার ম্যাচের দুটিতে হেরে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয় দলটি। এরপর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান বাঁহাতি এই পেসার।
অবসরের পর থেকেই আমিরের ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। এবার সেই সম্ভাবনার কথা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। আমিরের ভাষায়, পাকিস্তানের হয়ে তাঁর অধ্যায় এখন শেষ।
ফুরকান ভাট্টির ইউটিউব চ্যানেলের এক আলোচনায় আমির বলেন, ‘আমি এখন স্থানীয় ব্রিটিশ। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ও দ্য হান্ড্রেডের মতো প্রতিযোগিতায় স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে হলে একটি নথিতে স্বাক্ষর করতে হয়। সেখানে বলা থাকে, আপনি অন্য কোনো দেশের হয়ে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে পারবেন না। তাই পাকিস্তানের হয়ে যে অধ্যায় ছিল, সেটি এখন সমাপ্ত।’
২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আমির। পরে স্ত্রী নারজিস খানের মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ও যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টও অর্জন করেন তিনি। এরপরও ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের জার্সিতে তাঁকে দেখা যেতে পারে—এমন আলোচনা চলছিল। আমিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই জল্পনার অবসান হলো।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। টুর্নামেন্টটি ৪ অক্টোবর শুরু হয়ে চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার ফলে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতায় আমিরকে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে হবে। ৩৪ বছর বয়সী এই পেসার পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন ২০০৯ সালে।
পাকিস্তানের হয়ে ৩৬ টেস্টে ১১৯, ৬১ ওয়ানডেতে ৮১ এবং ৬২ টি-টোয়েন্টিতে ৭১ উইকেট নিয়েছেন আমির। তিনটি বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।
২০০৯ ও ২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও খেলেছেন আমির। ২০০৯ সালে পাকিস্তানের শিরোপাজয়ী অভিযানে সাত ম্যাচে ৬ উইকেট নেন তিনি। ২০১০ বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে তাঁর শিকার ছিল ৮ উইকেট। আর ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭ উইকেট নিয়েছিলেন এই বাঁহাতি পেসার।


