হামজা চৌধুরীর পরবর্তী ঠিকানা নিয়ে এত দিন আলোচনায় ছিল ডার্বি কাউন্টির নাম। দলবদলের আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছিল বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে বদলে গেল সব হিসাব। ডার্বিতে নয়, পুরোনো ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডেই ফিরছেন বাংলাদেশি মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, লেস্টার সিটির সঙ্গে হামজাকে স্থায়ীভাবে দলে ভেড়ানোর ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছেছে চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেড। ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার এখন মেডিক্যাল পরীক্ষার অপেক্ষায় আছেন। সেটি সম্পন্ন হলেই আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রক্রিয়া শেষ হবে।
গত মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছিলেন হামজা। চ্যাম্পিয়নশিপে ক্লাবটির জার্সিতে ১৯ ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি, যার ১৬টিতে ছিলেন শুরুর একাদশে। তাঁর পারফরম্যান্সে ভর করে প্লে-অফ ফাইনালেও জায়গা করে নেয় শেফিল্ড। যদিও ফাইনালে সান্দারল্যান্ডের কাছে হেরে প্রিমিয়ার লিগে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় তাদের।
হামজার সঙ্গে লেস্টারের সম্পর্ক অবশ্য দীর্ঘদিনের। মাত্র ৭ বছর বয়সে ক্লাবটির একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। ২০১৭ সালে লেস্টারের মূল দলে অভিষেকের আগে ধারে বার্টন অ্যালবিয়নে খেলেছিলেন এই মিডফিল্ডার। পরবর্তীতে ধারে ওয়াটফোর্ডেও খেলেছেন তিনি।
লেস্টার বর্তমানে ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তর লিগ ওয়ানে খেলছে। চলতি মাসে দলটির হয়ে লিগের প্রথম তিন ম্যাচেও মাঠে ছিলেন হামজা। তবে ইপসউইচ টাউন ও এমকে ডনসের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই ম্যাচে তাঁকে স্কোয়াডে রাখা হয়নি। দলবদলের সম্ভাবনার কারণেই হামজাকে বাইরে রাখা হয়েছে বলে তখন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন লেস্টারের কোচ রাসেল মার্টিন।
এবার সেই সম্ভাবনাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। লেস্টারের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৬৬ ম্যাচ খেলেছেন হামজা। এবার স্থায়ীভাবেই পুরোনো ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে ফেরার পথে তিনি।
হামজাকে দলে ফেরানোর পেছনে শেফিল্ডের আরেকটি কারণও রয়েছে। দলটির প্রথম পছন্দের রাইটব্যাক ফেমি সেরিকি চোটে পড়েছেন। একাধিক পজিশনে খেলার সক্ষমতার কারণে হামজাকে তাই বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছে ক্রিস ওয়াইল্ডারের দল। মিডফিল্ড সামলানোর পাশাপাশি রাইটব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি। ফলে সেরিকির অনুপস্থিতিতে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বাংলাদেশের এই ফুটবলার।


