বিশ্বকাপ ফুটবলে স্পেনের কাছে প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে হারের ফলে শেষ হয়ে গেল পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান। একই সঙ্গে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে অবসান হলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন মিকেল মেরিনো।
কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারিয়ে বেলজিয়াম পৌঁছেছে শেষ আটে। এর ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের তিনটি লাইন আপ চূড়ান্ত হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালের একটিতে ফ্রান্স মোকাবেলা করবে মরক্কোকে। অন্য এক কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই প্রতিনিধি নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। শেষ কোয়ার্টার ফাইনালের লাইন আপ চূড়ান্ত হবে আজ। সে ম্যাচের জন্য আজ রাতে আর্জেন্টিনা খেলবে মিসরের বিপক্ষে। অন্য এক ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া।
শেষ সময়ে গোল
স্পেন-পর্তুগাল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াতে পারে এমনটাই মনে হচ্ছিল। তবে শেষ মুহুর্তে স্টেডিয়ামে উপস্থিত পর্তুগালের সমর্থকদের স্তদ্ধ করে দেন মিকেল মেরিনো। তার গোলেই শেষ হয়ে যায় পর্তুগাল এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ মিশন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতে না বাজতেই জলভরা চোখ নিয়ে মাঠ ছেড়ে যান পর্তুগীজ অধিনায়ক।

উভয় দল বেশ সতর্কতার সঙ্গে ম্যাচটি শুরু করে। একে অপরকে আটকে রাখার মিশন নিয়েছিল স্পেন ও পর্তুগাল। ফলে বল নিয়ে লামিন ইয়ামাল বারবার পেনাল্টি বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেও সফল হননি। অন্যদিকে ব্রুনো ফার্নান্দেস ও রোনালদো ম্যাচে নিজেদের মেলে ধরার মতো জায়গা খুঁজে পাননি।
বদলি খেলোয়াড়ে সর্বনাশ পর্তুগালের
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন দুই বদলি খেলোয়াড়। দ্রুত একটা ফ্রি কিক নেওয়ার সময় পর্তুগাল প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ঠিকমতো পাহারা দিতে পারেনি। সেই সুযোগে ফেরান তোরেস বক্সের কিনারায় বল পেয়ে যায়। প্রথম স্পর্শেই বলকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ এক পাস দেন মিকেল মেরিনোর উদ্দেশে। আর তাতেই পর্তুগালের সব শেষের শুরু। দৌড়ে বল নিয়ন্ত্রণে দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মেরিনো।
স্পেনের জাল অক্ষত
১-০ গোলে পাওয়া এ জয়ের মাঝ দিয়ে স্পেন তাদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ফুটিয়ে তুলেছে। বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত কোনো দল তাদের জালে বল ফেলতে পারেনি। গ্রুপ পর্বেও না, শেষ বত্রিশেও না। স্বাভাবিকভাবে স্পেনের রক্ষণভাগ এখন প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।


