তিন ম্যাচ আগেও বিশ্বকাপসেরা, আজ দলেই নেই সঞ্জু

মাত্র তিন ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের হিসাবে খুব বড় কোনো সময় নয়। অথচ এই তিন ম্যাচই বদলে দিতে পারে একজন ক্রিকেটারের অবস্থান, বদলে দিতে পারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও। সঞ্জু স্যামসনের সাম্প্রতিক ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচে ভারতের হয়ে সঞ্জুর ব্যাট থেকে আসে ৯৭*, ৮৯ ও ৮৯ রানের তিনটি দুর্দান্ত ইনিংস। ফাইনালেও খেলেন ম্যাচজয়ী ইনিংস। পুরো টুর্নামেন্টে ছিলেন ভারতের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটারদের একজন এবং টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।

কিন্তু বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ছবিটা বদলাতে সময় লাগেনি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে টানা তিন ইনিংসে ব্যর্থ হন সঞ্জু। রান করেন যথাক্রমে ৫, ০ ও ১।

এরপরই আসে বড় সিদ্ধান্ত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির একাদশে জায়গা পাননি তিনি। তার বদলে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশীর।

বৈভবের দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে খুব একটা বিতর্ক নেই। আইপিএলে তার ব্যাটিং, ভয়ডরহীন মানসিকতা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে অনেক আগেই আলোচনায় এনে দিয়েছিল। ভারতের ভবিষ্যৎ হিসেবে তাকে দেখা হচ্ছিল। তবে প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। সুযোগটা কেন এল ঠিক সেই ক্রিকেটারের জায়গায়, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন?

ভারতের টপ অর্ডারেও খুব বেশি পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না। ওপেনিংয়ে অভিষেক শর্মা দারুণ ছন্দে, তিন নম্বরে খেলছেন ঈশান কিষাণ। ফলে নতুন কাউকে জায়গা দিতে হলে কাউকে না কাউকে সরে দাঁড়াতেই হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই নামটি হয়ে গেল সঞ্জু স্যামসন।

এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররাও। সঞ্জয় মাঞ্জরেকার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, প্রথমে তার মনে হয়েছিল স্যামসন হয়তো চোট পেয়েছেন। কারণ মাত্র তিনটি ব্যর্থ ইনিংসের পর তাকে বাদ দেওয়া তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। আম্বতি রায়ডুও মনে করিয়ে দিয়েছেন, মাত্র তিন ম্যাচ আগেই যিনি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন, তাকে এত দ্রুত ভুলে যাওয়া সহজ নয়।

খেলাধুলার বাস্তবতা অবশ্য এমনই। এখানে অতীতের অর্জন সম্মান এনে দেয়, কিন্তু ভবিষ্যতের জায়গা নিশ্চিত করে না। প্রতিটি সিরিজ, প্রতিটি ম্যাচ, এমনকি প্রতিটি ইনিংস নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ।

বৈভব সূর্যবংশীর অভিষেকের দিনে ভারতীয় ক্রিকেট নতুন এক তারকার আগমনে উচ্ছ্বসিত। অন্যদিকে সঞ্জু স্যামসনের জন্য এটি হয়তো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বারবার দেখিয়েছে, বড় খেলোয়াড়দের গল্প শেষ হয়ে যায় না একটি ব্যর্থ অধ্যায়ে। এখন দেখার বিষয়, এই ধাক্কা সামলে সঞ্জু আবারও নিজের গল্প নতুন করে লিখতে পারেন কি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles