ওয়ানডে ম্যাচে মাত্র ১৪২ রানের লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন লক্ষ্য সাধারণত বড় কোনো পরীক্ষা নয়। কিন্তু হারারেতে সেটিই বাংলাদেশের জন্য হয়ে দাঁড়াল দুর্ভেদ্য পাহাড়। নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে দেড়শর আগেই গুটিয়ে দেওয়ার পরও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২৫ রানের হতাশাজনক হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগারদের। ফলে ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানেই অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। দলের সর্বোচ্চ ৩৩ রান আসে নিউম্যান নিয়ামুরির ব্যাট থেকে। জবাবে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম। ৬ বলে ৮ রান করেন তিনি। আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারও ব্যর্থ হন, ১০ বলে করেন মাত্র ৬ রান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দায়িত্ব ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর কাঁধে। কিন্তু তিনিও হতাশ করেন। মাত্র ৭ বলে ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
১৭ রানেই ৩ উইকেট হারানোর পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান। চতুর্থ উইকেটে তাদের ৪৯ রানের জুটি ম্যাচে ফেরার আশা জাগিয়েছিল। হৃদয় ৫৮ বলে ২৫ রান করে আউট হলে সেই জুটি ভেঙে যায়। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৭ বলে ৩ রান করে ফিরে যান। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ইনিংস বড় করতে পারেননি, তার ব্যাট থেকে আসে ১০ রান।
এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। ৪৪ বলে ৩১ রান করে তিনিও ফিরে গেলে বাংলাদেশের প্রতিরোধ শেষ হয়ে যায়। শেষদিকে আর কোনো ব্যাটার দাঁড়াতে না পারায় ১১৬ রানেই থামে সফরকারীদের ইনিংস।
এর আগে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরুটা মোটামুটি ভালো হলেও দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত থ্রোতে বেন কারানের রান আউটের মাধ্যমে। পরের বলেই তাসকিন আহমেদের শিকার হন ব্রায়ান বেনেট। এরপর প্রথম বলেই ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করে স্বাগতিকদের আরও চাপে ফেলেন এই পেসার।
এরপর বল হাতে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন নাহিদ রানা। তার গতি ও বাউন্সে একে একে ফিরেছেন সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদানধে ও ইনোসেন্ট কাইয়া। ৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে তখন একশর আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায়।
সেই অবস্থায় নবম উইকেটে রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান নিয়ামুরি ৬৩ রানের মূল্যবান জুটি গড়ে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন। ২৭ রান করা এনগারাভাকে বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙেন নাহিদ। ইনিংসে এটিই ছিল তার ষষ্ঠ উইকেট। ১৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি নাহিদের তৃতীয় পাঁচ উইকেট শিকার এবং ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে ওয়ানডেতে তার চেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে শুধু মোস্তাফিজুর রহমানের।
তবে নাহিদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংও শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে আসেনি। ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে না পেরে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।


