পিসিবির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ রমিজ

সিরিজের মাঝপথে দলের সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো এবং দুই কোচকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক সভাপতি রমিজ রাজা। তাঁর মতে, এমন সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এতে দলের ভাবমূর্তি ও খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস-দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে বাজে পারফরম্যান্স করছে পাকিস্তান। প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারের পর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টেও ১৯৪ রানে হেরেছে সফরকারীরা। দুই টেস্টের চার ইনিংসের একটিতেও ২০০ রানের দেখা পায়নি পাকিস্তান। ফলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ২–০ ব্যবধানে সিরিজ হাতছাড়া হয়েছে তাদের।

এরপরই বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় পিসিবি। তৃতীয় টেস্টের আগে হঠাৎ করেই সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আগা ও ইমাম-উল-হক।

খেলোয়াড়দের দেশে ফেরানোর পাশাপাশি টেস্ট দলের প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে পিসিবি। তাঁদের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাইক হেসন ও অ্যাশলি নফকে। সাদা বলের ক্রিকেটে পাকিস্তান দলের কোচিং স্টাফে আগে থেকেই আছেন এই দুই কোচ।

পিসিবির এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এবার সেই সমালোচনায় যোগ দিলেন রমিজ রাজাও। বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে কথা বলতে গিয়ে সাবেক এই পাকিস্তানি অধিনায়ক বলেন, এসব সিদ্ধান্ত দেখে তাঁর মনে হচ্ছে, পাকিস্তান ক্রিকেটের কর্তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

রমিজ বলেন, ‘আমি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু আসলে তা নয়। এটা দেখাচ্ছে, পাকিস্তান ক্রিকেট আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এটা ক্রিকেটের জন্য ভালো নয়, দলে আসা খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসের জন্যও ভালো নয়। এমনকি যারা দলে রয়ে গেছে, তাদের জন্যও নয়। কারণ, এ ধরনের সিদ্ধান্ত একটি দলকে স্বার্থপর করে তোলে।’

এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের দলে বেশ কয়েকজন অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে নেওয়া হয়েছে। আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাইদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান ও রাজাউল্লাহ-এই পাঁচজনের কারও টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। এ ছাড়া সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলকেও দলে ফিরিয়েছে পাকিস্তান।

নতুনদের নিয়ে পিসিবির পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রমিজ। তাঁর প্রশ্ন, টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা না থাকা খেলোয়াড়দের হঠাৎ করে দলে এনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা কোথায়?

রমিজ বলেন, ‘তারা যে ফল এনে দেবে, তার নিশ্চয়তা কী? এদের কয়েকজন তো টেস্ট ক্রিকেটই খেলেনি। কেন এমন করা হলো, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।’

সিরিজ চলাকালে কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকেও নজিরবিহীন মনে করছেন পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক। তাঁর মতে, ফুটবলে মৌসুমের মাঝপথে কোচ বা ম্যানেজারকে বরখাস্ত করার ঘটনা দেখা গেলেও ক্রিকেটে এমন ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না।

রমিজ বলেন, ‘বিশ্ব ক্রিকেটে আমরা এমন ঘটনা কতবার দেখেছি? কখনোই না। এটা অনেকটা ফুটবলের মতো-মৌসুমের মাঝপথে একজন ম্যানেজারকে বরখাস্ত করা। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, কীভাবে পরিস্থিতি ঠিক করা যায়, আমার কোনো ধারণা নেই।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তান খেলবে বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে। ম্যাচটি শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর। সিরিজের প্রথম দুই টেস্ট জিতে ইতিমধ্যে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles