গত জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল হৃদয়ের। তবে অভিষেকটা মনে রাখার মতো হয়নি। এরপর জাতীয় দল থেকে জায়গা হারান এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টেও সুযোগ পাননি তিনি।
জাতীয় দলের বাইরে থাকার সময়টাকে অবশ্য হতাশায় কাটাননি হৃদয়। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে বরং ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন। পচেফস্ট্রুমে তৃতীয় দিনের খেলায় ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ ও দৃঢ়তার অসাধারণ প্রদর্শনীতে তুলে নিয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরি।
পুরো ইনিংসজুড়েই হৃদয় ছিলেন নিয়ন্ত্রিত। প্রতিপক্ষ বোলারদের খুব একটা সুযোগ দেননি। একাগ্রতা ধরে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়েছেন ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিকে। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় দিনের একেবারে শেষ দিকে বাঁহাতি স্পিনার সিমন্ডসকে কাট করে চার মেরে ১৯৯ থেকে ২০০ রানে পৌঁছান তিনি।
ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংসটি হৃদয় খেলেছেন ৩৩৫ বলে। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ২২টি চার ও একটি ছক্কা। দীর্ঘ এই ইনিংসে ছিল যেমন ধৈর্য, তেমনি প্রয়োজনের সময়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ছাপও।
হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ ‘এ’ দলও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। তৃতীয় দিনের শেষে ৬ উইকেটে ৪৭১ রান করেছে তারা। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের প্রথম ইনিংসের ৫১২ রানের জবাব দিতে এখনো ৪১ রান পিছিয়ে বাংলাদেশ।
দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর পাশাপাশি হৃদয়ের এই ডাবল সেঞ্চুরি ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের বাইরে চলে যাওয়ার পর ব্যাট হাতে এমন একটি ইনিংস নির্বাচকদের সামনে তাঁর দাবিটা যে নতুন করে তুলে ধরবে, তাতে সন্দেহ নেই।


