ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, সিপিএলে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন দাসুন শানাকা। সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে মাত্র ৩৯ বলে সেঞ্চুরি করে সিপিএলের দ্রুততম শতকের নতুন রেকর্ড গড়েছেন শ্রীলঙ্কার এই অলরাউন্ডার। তাঁর বিধ্বংসী অপরাজিত ১২১ রানের ইনিংসে ভর করে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস পেয়েছে ১৩৭ রানের বিশাল জয়।
ব্যাসেটেরেতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না প্যাট্রিয়টসের। দশম ওভারে ৮৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় তারা। তখনই ক্রিজে আসেন দাসুন শানাকা। এরপর ম্যাচের চিত্রই বদলে দেন তিনি।
শুরুতে দেখেশুনে খেললেও রস্টন চেজের বলে পরপর দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আক্রমণাত্মক রূপ দেখান শানাকা। এরপর ফোর্ডের বোলিংয়েও চালান তাণ্ডব। একে একে ছক্কা হাঁকাতে থাকেন চেজ ও কিওন গ্যাস্টনের বলে। মাত্র ২৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি।
অন্য প্রান্তে আন্দ্রে ফ্লেচারও দারুণ ব্যাটিং করেন। কয়েকবার জীবন পাওয়ার পর ৩৪ বলে ৬৪ রান করেন এই ওপেনার। ফ্লেচার আউট হয়ে গেলেও থামেননি শানাকা। শেষদিকে জেসন হোল্ডারও ফিরলে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি।
নিজের স্বদেশি মহেশ থিকশানার করা এক ওভারে তিন বলে টানা ৬, ৬ ও ৪ মেরে ২০ রান তুলে নেন শানাকা। এরপর শেষ ওভারে কিওন গ্যাস্টনকে রীতিমতো তুলোধোনা করেন। চারটি ছক্কা ও একটি চার মেরে ওই ওভার থেকেই নেন ২৮ রান।
শেষ পাঁচ ওভারে প্যাট্রিয়টসের ব্যাটাররা তুলে নেয় ৯৩ রান। আর শানাকা ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার জুটিতে মাত্র ৩১ বলে আসে ৯৩ রান। শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ১২১ রানে অপরাজিত থাকেন শানাকা। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ১২টি ছক্কা। তাঁর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় প্যাট্রিয়টস।
২৩৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে সেন্ট লুসিয়া কিংস। ইনিংসের প্রথম ওভারেই কামিল পুরান শূন্য রানে ফিরে যান। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে কিংস।
ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার স্পিনে দুইবার স্টাম্প ভেঙে যায়। তাঁর বোলিংয়ে দ্রুত চার উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৫ রানে ধুঁকতে থাকে কিংস। এরপর জেরেমায়া লুইস জোড়া আঘাতে ম্যাচ পুরোপুরি প্যাট্রিয়টসের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। রস্টন চেজ ও ফোর্ডকে পরপর দুই বলে ফেরান তিনি।
এক প্রান্তে টিম সেইফার্ট লড়াই চালিয়ে যান। ৩৬ বলে ফিফটি তুলে নিলেও সতীর্থদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি। সেইফার্ট ছাড়া কিংসের আর মাত্র দুজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেন।
শেষ পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৫ ওভারে মাত্র ৯৮ রানে অলআউট হয় সেন্ট লুসিয়া কিংস। বল হাতে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স দেখান জেরেমায়া লুইস। মাত্র ১০ রান খরচ করে ৫ উইকেট নেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেটের শিকার, আর মাত্র দশম টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই এমন কীর্তি গড়লেন এই বোলার। হাসারাঙ্গা নেন ২ উইকেট।
ফলে ১৩৭ রানের বিশাল জয় পায় সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস। রান ব্যবধানে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় জয়।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম অবস্থান আরও শক্ত করেছে প্যাট্রিয়টস। প্লে-অফের দৌড়ে নিজেদের সম্ভাবনাও জোরালো করেছে তারা। একই সঙ্গে বড় জয়ের কারণে তাদের নেট রানরেটও নাটকীয়ভাবে বেড়েছে, মাইনাস শূন্য দশমিক পাঁচ চার সাত থেকে বেড়ে হয়েছে প্লাস শূন্য দশমিক পাঁচ নয় তিন।
অন্যদিকে বড় ব্যবধানে হেরে সেন্ট লুসিয়া কিংসের নেট রানরেট নেমে গেছে মাইনাস শূন্য দশমিক আট আট আটে। পয়েন্ট ব্যবধানে খুব বেশি পিছিয়ে না থাকলেও প্লে-অফের লড়াইয়ে এই হার তাদের জন্য বড় ধাক্কা।
তবে ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন দাসুন শানাকাই। মাত্র ৩৯ বলে সেঞ্চুরি করে সিপিএলের দ্রুততম শতকের রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার পাশাপাশি ১২ ছক্কায় সাজানো তাঁর ১২১ রানের ইনিংসই প্যাট্রিয়টসকে এনে দিয়েছে বিশাল জয়। শানাকার ব্যাটিং ঝড় আর লুইসের পাঁচ উইকেটের দাপটে সেন্ট লুসিয়া কিংসকে ১৩৭ রানে উড়িয়ে দিয়ে প্লে-অফের স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস।


