বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম আগস্টেই শুরু হওয়ার কথা ছিল কিন্তু আটকে ছিল ফিফা নিষেধাজ্ঞা আর খেলোয়াড় নিবন্ধনের কারণে। অবশেষে পরশু শেষ হয়েছে খেলায়াড় নিবন্ধন। তবে বাংলাদেশের ক্লাবগুলোতে সাফ অঞ্চলের ফুটবলারদের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে নেপালের ফুটবলারদের দিকে বেশি ঝুঁকেছে ক্লাবগুলো। বিদেশি এবং সাফ কোটা মিলিয়ে এবার মোট ৬৫ জন ভিনদেশি ফুটবলার নিবন্ধিত হয়েছে, যাঁদের মধ্যে সাফ কোটার ১৯ জন ফুটবলারের মধ্যে ১৪ জনই নেপালের! বলা যায় খেলোয়াড় নিবন্ধনে ঘরোয়া লিগে এবার নেপালিদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় খেলোয়াড়দের দাবি: গত মৌসুম থেকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে সার্কভুক্ত দেশের ফুটবলাররা ‘স্থানীয় খেলোয়াড়’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে প্রথমবার (গত আসর) সাফ কোটায় সর্বোচ্চ ৫ জন খেলোয়াড় নিবন্ধনের সুযোগ থাকলেও এবার স্থানীয় খেলোয়াড়দের দাবি মেনে সেটি ৩ জন করা হয়েছে। কোটা কমলেও গতবারের তুলনায় এবার এই অঞ্চলের ফুটবলারের নিবন্ধন বেশী হয়েছে।
গত মৌসুমে লিগের প্রথম পর্বের জন্য সাফ কোটায় ১১ জন (৮ জনই ছিলেন নেপালের) নিবন্ধিত হয়েছিলেন। এবার তা ৭জন বেড়েছে। বিদেশি কোটায় অবশ্য গতবারের মতো এবারও সর্বোচ্চ ৪ জন করে খেলোয়াড় নিতে পেরেছে দলগুলো। গত মৌসুমে সাফ কোটার বাইরে বিদেশি কোটায় নিবন্ধন করেছিলেন ৩৭ জন।
ঘরোয়া লিগের ক্লাব ১৩টি: গতবার ১০টি ক্লাব খেলেছিল এবার ৩টি বেড়ে হয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে ৯টি ক্লাব সাফ কোটার খেলোয়াড় নিয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার, গত মৌসুমে সাফ কোটায় কোনো খেলোয়াড় না নেওয়া বাংলাদেশ লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এবার তিনজন নেপালি ফুটবলার দলে নিয়েছে। যাঁদের মধ্যে আছেন নেপাল জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড অঞ্জন বিস্তা, মানিশ দাঙ্গি ও ডিফেন্ডার রহিত চাঁদ।
বসুন্ধরা কিংস তাদের পুরোনো ব্রাজিলিয়ান তারকা রবসন রবিনহোকে ফিরিয়েছে, সঙ্গে নতুন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জেসুস দা সিলভা এবং নাইজেরিয়ার ফরোয়ার্ড ওবুগহ এমেকাকে নিয়েছে। আর স্থানীয়দের মধ্যে দলটিতে থেকে গেছেন তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, রাকিব হোসেন, মোহাম্মদ হৃদয়, তাজ উদ্দিন, সোহেল রানা, নাবিব নেওয়াজ এবং মেহেদী হাসান।
মোহামেডান সাফ কোটায় কোনো ফুটবলার নেয়নি। বিদেশি কোটায় তারা দলে ফিরিয়েছে মালির স্ট্রাইকার সুলেমান দিয়াবাতে এবং নাইজেরিয়ার দুজনকে। উজবেকিস্তানের মোজাফফরভকে রেখে দিয়েছে সাদা–কালোরা।
নেপালি ফুটবলারদের প্রতি আগ্রহ: সাবেক স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি বলেন- নেপালের ফুটবলারদের তুলনামূলক কম টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আবার নেপালিরা এখানে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন নিজেদের দেশের চেয়ে। ফলে ওরাও আগ্রহী হচ্ছে বাংলাদেশে খেলতে।
লিগে প্রথমবার নতুন দেশের বিদেশী ফুটবলার: এবার বিভিন্ন দলের খেলোয়াড় তালিকায় কয়েকটি চমক জাগানিয়া দেশের নাম যেমন- ওয়ান্ডারার্স অস্ট্রেলিয়ার ফরোয়ার্ড বাইলে জন ও ইন্দোনেশিয়ার ফরোয়ার্ড আইদিল উসমান দাইরাকে দলভুক্ত করেছে। ব্রাদার্স আয়ারল্যান্ডের ডিফেন্ডার উইলিয়াম ওদুয়া এবং পিডব্লিউডিতে জার্মানির ডিফেন্ডার উলরিচ বালোকিকে দেখা যাবে।
বাংলাদেশ লিগের ১৩টি দল: আরামবাগ, বাংলাদেশ পুলিশ, বসুন্ধরা কিংস, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম সিটি, সিটি ক্লাব, ঢাকা আবাহনী, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, ফর্টিস, ফকিরেরপুল, মোহামেডান, ডিডব্লিউডি, রহমতগঞ্জ।


