হংকংকে ৭২ রানে হারিয়ে শেষ চারে পাকিস্তান, ৬ উইকেটে ৭ রান নিয়ে ইতিহাস গড়লেন নাশরা সান্ধু
নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হংকংকে ৭২ রানে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়েছে ফাতিমা সানার দল। পাকিস্তানের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন বাঁহাতি স্পিনার নাশরা সান্ধু। মাত্র ৭ রান খরচ করে ৬ উইকেট নিয়ে নারী টি-টোয়েন্টিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
এই ম্যাচে প্রথম পাকিস্তানি বোলার হিসেবে নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন নাশরা। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৭১ রানেই গুটিয়ে যায় হংকং। ফলে ১৪৪ রানের লক্ষ্য পেয়েও ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি তারা।
পাকিস্তানের ইনিংস
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। এবারের টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে তারা।
শুরুতে খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না পাকিস্তান। তবে শাওয়াল জুলফিকার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন। ৩৫ বল মোকাবিলা করে ৪৭ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার।
জুলফিকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন আয়েশা জাফর। দুজন মিলে ৩৪ বলে ৪৭ রান যোগ করেন। জাফর ১৯ বলে ২৬ রান করে আউট হন।
অধিনায়ক ফাতিমা সানাও ব্যাট হাতে কার্যকর অবদান রাখেন। ২৪ বলে ২৪ রান করেন তিনি। তবে জুলফিকার ফিরে যাওয়ার পর পাকিস্তানের রান তোলার গতি কমে যায়। তার আউটের পর ৮.৪ ওভারে মাত্র ৫১ রান যোগ করতে পারে পাকিস্তান।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রানের সংগ্রহ পায় ফাতিমা সানার দল।

চার উইকেট নিয়ে উজ্জ্বল জয়লিন
পাকিস্তানের বিপক্ষে হংকংয়ের সেরা বোলার ছিলেন জয়লিন কৌর। ধীরগতির উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তিনি ৪ উইকেট নেন ১৯ রান খরচ করে। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।
পাকিস্তানি ব্যাটারদের বড় শট খেলার সুযোগ না দিয়ে অফ স্টাম্পের বাইরে বল করে যেতে থাকেন কৌর। তার বোলিংয়ের ফাঁদে পড়ে আয়েশা জাফর ও জুলফিকার।
শেষ ওভারে আরও দুটি উইকেট নিয়ে নিজের চার উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। সাদাফ শামাস লং-অনে ক্যাচ দেন। এরপর ইমান ফাতিমাকে এলবিডব্লিউ করেন কৌর।
শুরুতেই চাপে হংকং
পাকিস্তানের দেওয়া ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হলে হংকংকে ১২.৩ ওভারের মধ্যে ম্যাচ জিততে হতো। কারণ সেমিফাইনালের দৌড়ে রানরেটের হিসাবও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তবে পাকিস্তানের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে শুরু থেকেই কঠিন পরীক্ষায় পড়ে হংকং। প্রথম ওভারেই মারিকো হিলের প্রতিরোধ ভেঙে দেন ফাতিমা সানা।
দ্বিতীয় ওভারের শুরুতেই সাদিয়া ইকবাল আর্ম বল দিয়ে নাতাশা মাইলসকে এলবিডব্লিউ করেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে হংকং।
ক্যারি চ্যান কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ৩০ রান করে তিনিই হন হংকংয়ের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তবে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি।
নাশরা সান্ধুর রেকর্ড
হংকংয়ের ইনিংসের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে নাশরা সান্ধুর স্পেলে। পাওয়ারপ্লের পর আক্রমণে এসে বাঁহাতি এই স্পিনার পুরো ম্যাচের চিত্রই বদলে দেন।
তার নিখুঁত লাইন ও লেংথের সামনে কোনোভাবেই স্বস্তিতে ব্যাট করতে পারেনি হংকংয়ের ব্যাটাররা। নাশরা শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন।

নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি পাকিস্তানের কোনো বোলারের প্রথম ছয় উইকেটের ঘটনা। একই সঙ্গে তার ৬ উইকেটে ৭ রান এশিয়া কাপের ম্যাচটিকেও আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
নাশরার ফ্লাইটেড ডেলিভারি ইয়াসমিন দাসওয়ানিকে সমস্যায় ফেলে। এরপর মারিনা ল্যাম্পলফকে বোল্ড করেন তিনি। নিজের পরের ওভারে মাত্র চার বলের মধ্যে মেরিয়াম বিবিকে ক্যাচে পরিণত করেন।
শেষ ওভারে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন নাশরা। মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে তিনটি উইকেট তুলে নেন তিনি। এর মধ্যে প্রথম দুটি উইকেট আসে টানা দুই বলে। প্রতিটি উইকেটের পর তার উদযাপনে বাড়তে থাকে উচ্ছ্বাস।
শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ৭১ রানে অলআউট হয় হংকং। নাশরা সান্ধুর ৬ উইকেটের পাশাপাশি পাকিস্তানের বোলিং ইউনিটও পুরো ম্যাচে ছিল দুর্দান্ত।
সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি পাকিস্তান
এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বে তাদের জয় এসেছে একটি ম্যাচে। শেষ ম্যাচে হংকংকে হারিয়ে সেই জয়টিই তাদের শেষ চারে জায়গা করে দিয়েছে।
সেমিফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে দুই দলের লড়াই।
অন্যদিকে টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে হংকং। পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের ফলে গ্রুপ পর্বেই শেষ হয়েছে তাদের এশিয়া কাপ অভিযান।
স্কোরকার্ড
পাকিস্তান — ১৪৩/৮ (২০ ওভার)
শাওয়াল জুলফিকার — ৪৭ (৩৫)
আয়েশা জাফর — ২৬ (১৯)
ফাতিমা সানা — ২৪*
অন্যান্য — প্রয়োজন অনুযায়ী
বোলিং: জয়লিন কৌর ৪/১৯
হংকং — ৭১ (১৯ ওভার)
ক্যারি চ্যান — ৩০ (৪৭)
অন্যান্য — উল্লেখযোগ্য নয়
বোলিং: নাশরা সান্ধু ৬/৭
ফল: পাকিস্তান ৭২ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচের পারফরম্যান্স: নাশরা সান্ধু — ৬ উইকেটে ৭ রান।
পরবর্তী ম্যাচ: সেমিফাইনালে পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা, শুক্রবার।


