নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোজে আরেকটি ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আরিনা সাবালেঙ্কা। ঘরের মাটির জেসিকা পেগুলাকে হারিয়ে টানা তৃতীয় ইউএস ওপেন শিরোপা জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন বেলারুশের এই তারকা। সেমিফাইনালে পেগুলাকে ৭-৫, ৬-২ গেমে হারিয়ে শনিবারের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছেন তিনি। ইউএস ওপেনে এটি সাবালেঙ্কার টানা ২০তম জয়।
শুরুটা অবশ্য খুব স্বস্তির ছিল না সাবালেঙ্কার। প্রথম সেটে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে নিজের ওপরই বিরক্ত হচ্ছিলেন তিনি। অন্যদিকে দ্রুত ছন্দে ফিরে পেগুলা পরিষ্কার শটে চাপ তৈরি করছিলেন। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি বেশ কঠিন পরীক্ষাই হতে যাচ্ছে শীর্ষ বেলারুশিয়ান তারকার জন্য। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের সেরা খেলাটা বের করে আনেন সাবালেঙ্কা। প্রথম সেটের ৬-৫ গেমে আক্রমণাত্মক টেনিসে পেগুলাকে চাপে ফেলে সেটটি নিজের করে নেন। এরপর দ্বিতীয় সেটে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক শক্তিশালী শটে প্রতিপক্ষকে অসহায় করে দ্রুতই ম্যাচ শেষ করেন তিনি। পুরো ম্যাচে সাবালেঙ্কার ব্যাট থেকে আসে ২৯টি উইনার, সেখানে পেগুলার উইনার ছিল ১২টি।
জয়ের পর সাবালেঙ্কা বলেন, ‘আমি জিততে মরিয়া ছিলাম। খুব করে চেয়েছিলাম জয়টা। কোনো অভিযোগ নেই, এত ভালো টেনিস খেলতে পেরে আমি দারুণ খুশি।’
এই জয়ের মাধ্যমে ইউএস ওপেনে নতুন এক রেকর্ডও গড়েছেন ২৮ বছর বয়সী সাবালেঙ্কা। ওপেন যুগে হার্ড কোর্টের গ্র্যান্ড স্লামে টানা সবচেয়ে বেশি ফাইনালে ওঠার রেকর্ড এখন তাঁর। ২০২৩ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর থেকে হার্ড কোর্টের প্রতিটি গ্র্যান্ড স্লামেই ফাইনালে উঠেছেন তিনি। এবার তাঁর সামনে আরও বড় ইতিহাস। ইউএস ওপেনে টানা তিনবার নারী এককের শিরোপা জয়ের কীর্তি ওপেন যুগে এর আগে কেবল সেরেনা উইলিয়ামস ও ক্রিস এভার্টের রয়েছে। সাবালেঙ্কা সেই বিরল তালিকায় নাম লেখানোর অপেক্ষায়।

তবে ফাইনালের আগে তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে এলেনা রিবাকিনা ও কোকো গফের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ফলের জন্য। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনজয়ী রিবাকিনা ইতিমধ্যে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছেন। সোমবার নতুন র্যাঙ্কিং প্রকাশ হলে সাবালেঙ্কাকে এক নম্বর জায়গা ছাড়তে হবে। তবে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লামটি জিতে সেই হতাশা কিছুটা হলেও ভুলতে চাইবেন তিনি।
পেগুলার বিপক্ষে এই জয় সাবালেঙ্কার কাছে অন্য কারণেও বিশেষ। ২০২৪ সালের ইউএস ওপেন ফাইনালে এই আমেরিকানকেই হারিয়ে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কের শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। গত বছর সেমিফাইনালেও পেগুলাকে থামিয়েছিলেন বেলারুশিয়ান। যদিও জুনের বার্লিন ওপেনে সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে জয় পেয়েছিলেন পেগুলা। এবারও শুরুতে সেই লড়াইয়ের ছাপ দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত সাবালেঙ্কার শক্তির সামনে টিকতে পারেননি ৩২ বছর বয়সী পেগুলা। তাঁর জন্য হতাশাটা আরও বড়-ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে উঠেও প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার অপেক্ষা শেষ করতে পারলেন না তিনি।
অন্যদিকে সাবালেঙ্কার পথটা এবারের আসরে ক্রমেই মসৃণ হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাঁর ফর্ম নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল। মৌসুমের শুরুতে ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও মিয়ামি-দুটি বড় টুর্নামেন্ট জিতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও ফরাসি ওপেনে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং উইম্বলডনে চতুর্থ রাউন্ডেই থেমে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিউইয়র্কে এসে আবার নিজের পরিচিত বিধ্বংসী টেনিস ফিরে পেয়েছেন। ফাইনালে ওঠার পথে মাত্র একটি সেট হারিয়েছেন।
২০২৩ সালের ফাইনালে কোকো গফের কাছে হারের পর থেকে ইউএস ওপেনে আর হারেননি সাবালেঙ্কা। এবার সেই জয়যাত্রাকে টানা তৃতীয় শিরোপায় রূপ দিতে চান তিনি। সামনে আর মাত্র একটি ম্যাচ। আর সেই ম্যাচ জিতলেই সেরেনা ও এভার্টের পাশে লেখা হবে তাঁর নাম-ইউএস ওপেনের ইতিহাসে টানা তিন শিরোপাজয়ী হিসেবে।


