প্রস্তুতি সফরের শেষ ম্যাচে ৫-৪ গোলে পরাজয়
চীনের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেও প্রস্তুতি সফরের শেষ ম্যাচে জয় পেল না বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে স্বাগতিক চীনের কাছে ৫-৪ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই ম্যাচটি ছিল সমানে সমান। এক গোলের ব্যবধানে হারলেও শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল আশাব্যঞ্জক। সব মিলিয়ে জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের জন্য প্রস্তুতি ভালোভাবেই শেষ করলো বাংলাদেশ হকি দল।
বাংলাদেশের হয়ে চারটি গোল করেন পুষ্কর ক্ষিসা মিমো, আমিরুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম ইমন। চার খেলোয়াড়ের প্রত্যেকেই একটি করে গোল করেন। ম্যাচে একাধিকবার গোল করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত চীনের আক্রমণ সামলাতে না পারায় এক গোলের ব্যবধানে ম্যাচটি হাতছাড়া হয়।
চীনের বিপক্ষে এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে বাংলাদেশের পাঁচ ম্যাচের প্রস্তুতি সফর। আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি আরও ঝালিয়ে নিতে চীনে অবস্থান করছিল জাতীয় হকি দল। সফরে বিভিন্ন ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যাচাই করার পাশাপাশি দলের কৌশল, সমন্বয় ও ম্যাচ পরিস্থিতিতে নিজেদের সক্ষমতা পরখ করার সুযোগ পেয়েছে কোচিং স্টাফ।
শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে চার গোল করতে পারাটা বাংলাদেশের আক্রমণভাগের সক্ষমতারও প্রমাণ দিয়েছে। তবে পাঁচ গোল হজম করায় রক্ষণভাগ নিয়েও কাজ করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিজেদের রক্ষণ আরও সংগঠিত করার দিকে নজর দিতে হবে বাংলাদেশকে।
চীন সফরের আগে দলের প্রস্তুতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়ানো। সেই দিক থেকে পাঁচ ম্যাচের এই সফর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি করেছে। প্রতিটি ম্যাচ থেকেই খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফও দলের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো পর্যালোচনা করার সুযোগ পেয়েছেন।
পঞ্চম ম্যাচ শেষে এবার দেশে ফেরার পালা বাংলাদেশের। আগামীকাল চীন থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হবে জাতীয় হকি দল। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলের পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
চীন সফরের শেষ ম্যাচে হার দিয়ে প্রস্তুতি পর্ব শেষ হলেও পুরো সফরের অভিজ্ঞতা সামনে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এই সফরের ম্যাচগুলোর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


