মৌসুমের শুরুটা প্রত্যাশামতো হচ্ছে না লিভারপুলের। কখনো ঝলক দেখা যাচ্ছে, আবার কখনো পারফরম্যান্সে সেই আগুন নিভে যাচ্ছে। তবে কারাবাও কাপে টটেনহামের বিপক্ষে পাওয়া জয়টি কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে পারে। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও কোডি গাকপোর গোলে টটেনহামকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রতিযোগিতার চতুর্থ রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে লিভারপুল।
ম্যাচের শেষ দিকে টটেনহাম যখন সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া, তখন বদলি হিসেবে নেমে দারুণ এক গোলে লিভারপুলের জয় নিশ্চিত করেন দোমিনিক সোবোসলাই। ২৫ গজ দূর থেকে গাকপোর পাস নিয়ন্ত্রণে এনে দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে পাঠান হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডার।
লিভারপুলের প্রথম গোল আসে ৩৪ মিনিটে। রক্ষণ থেকে জো গোমেজের বাড়ানো বল বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে গাকপো দ্রুত বল দেন রিও এনগুমোহাকে। তাঁর পায়ের কারিকুরিতে টটেনহামের রক্ষণ ভেঙে গেলে ডেসটিনি উদোগির ট্যাকল থেকে বল পেয়ে ম্যাক অ্যালিস্টার বাঁকানো শটে গোল করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ায় লিভারপুল। ৫৩ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের পাস পেয়ে গাকপো ডান পায়ে বল নিয়ে টটেনহামের গোলরক্ষক মার্টিন দুবরাভকার বিপরীত কোণে নিখুঁত শটে গোল করেন।
এরপর অবশ্য টটেনহাম ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়। লিভারপুলের দ্বিতীয় গোলরক্ষক জর্জিও মামারদাশভিলি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখলেও ৬৮ মিনিটে কর্নার থেকে কনর গ্যালাঘার হেডে ব্যবধান কমান। ওই গোলের সময় বল ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন জর্জিয়ান গোলরক্ষক।

শেষ দিকে টটেনহাম চাপ বাড়ালে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ে। মোহাম্মদ কুদুসও একাধিক সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৮৫ মিনিটে সোবোসলাইয়ের অসাধারণ ভলি টটেনহ্যামের সব আশা শেষ করে দেয়।
এই জয়ে লিভারপুল কারাবাও কাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল। গাকপো ও ম্যাক অ্যালিস্টারের পারফরম্যান্সও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত মৌসুমে সমালোচিত হওয়া এই দুই খেলোয়াড়ই চলতি মৌসুমে লিভারপুলের উল্লেখযোগ্য পারফরমারদের তালিকায় উঠে এসেছেন। অন্যদিকে টটেনহামের জন্য হতাশার রাত আরও দীর্ঘ হলো-শীর্ষ স্তরের কোনো দলের বিপক্ষে এখনো জয়ের দেখা পায়নি তারা। এ নিয়ে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ৩১ সফরে তাদের জয় মাত্র একটি।


