৯৯ বছরের ইজারা বাতিল, আবাহনী মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে সরকার

ধানমণ্ডির ঐতিহ্যবাহী আবাহনী মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে সরকার। ৯৯ বছরের ইজারা বাতিলের পর আগামী বৃহস্পতিবার মাঠটির আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। মাঠটির সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধানমন্ডির এই মাঠ আবাহনী ক্লাবের অনুশীলন ও বিভিন্ন কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে দীর্ঘদিনের সেই ব্যবহারের অবসান ঘটতে যাচ্ছে ইজারা বাতিলের মধ্য দিয়ে।

যেভাবে ইজারা পেয়েছিল আবাহনী

ধানমন্ডির ১০ দশমিক ৯৬ একর জমির মধ্যে ৯ দশমিক ৭৬ একর ১৯৯৮ সালে ৯৯ বছরের জন্য আবাহনীকে ইজারা দেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এর দুই বছর আগে, ১৯৯৬ সালে, ক্লাবটি ইজারার জন্য আবেদন করেছিল।

পরবর্তীতে ২০১০ সালে মাঠের আরও শূন্য দশমিক ৮৯ একর জমি আবাহনীকে ইজারা দেওয়া হয়। তবে সেটিও কিছু শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হয়েছিল। ইজারার শর্ত ভঙ্গ এবং বকেয়া ফি পরিশোধ না করার অভিযোগে ইজারা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ৩ আগস্ট আবাহনীর তৎকালীন ফুটবল ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু ইজারা পুনর্বহালের আবেদন করলেও মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে দেয়।

অসমাপ্ত শেখ কামাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স

আবাহনী মাঠের উত্তর পাশে শেখ কামাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১১ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালে। তবে এখনো কমপ্লেক্সটির নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।

এ ছাড়া মাঠের পূর্ব পাশে ২০১৩ সালে একটি একাডেমি ভবন নির্মাণ করা হয়। সরকার মাঠটির দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব স্থাপনা ও মাঠের ভবিষ্যৎ ব্যবহার কীভাবে হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রোড-৮-এর মাঠও সরকারের নিয়ন্ত্রণে

শুধু আবাহনী মাঠ নয়, ধানমন্ডির রোড-৮-এর মাঠটির নিয়ন্ত্রণও নিতে যাচ্ছে সরকার। এই মাঠটি একসময় বিলুপ্ত শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ফুটবল ও ক্রিকেট কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করত। ফলে ধানমন্ডির দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া মাঠের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে।

আবাহনীর জন্য বড় পরিবর্তন

শেখ কামালের প্রতিষ্ঠিত আবাহনী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। ওই সময় ক্লাবের ট্রফি ও বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এরপর নতুন ব্যবস্থাপনা গত দুই মৌসুম ধরে ক্লাবটির কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এর মধ্যেই ঐতিহ্যবাহী ধানমণ্ডি মাঠের ইজারা বাতিল এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আবাহনীর জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

তবে মাঠটি ভবিষ্যতে কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে, সেটি এখনো বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হলে মাঠটির ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles