বাংলাদেশের ক্রিকেটে গত কয়েক মাসে একাধিক দল ও সিরিজে অনেক ক্রিকেটার সুযোগ পেলেও কোথাও দেখা যায়নি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলীকে। জাতীয় দল, বাংলাদেশ ‘এ’ দল, ইমার্জিং দল কিংবা হাই পারফরম্যান্স (এইচপি), কোনো স্কোয়াডেই জায়গা হয়নি ২৪ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটারের। তবে টানা বাদ পড়ার ঘটনায় কোনো ষড়যন্ত্র দেখছেন না আকবর। বরং বিষয়টিকে নিজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রথমবারের মতো জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) অধিনায়কদের ফার্স্ট ক্লাস ব্যাগি ক্যাপ দেওয়ার অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আকবর।
সেখানে নিজের বাদ পড়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমি ষড়যন্ত্র তত্ত্বের পথে যেতে চাই না। এটা আমার সৎ উত্তর। চার-পাঁচটি দল দেশের বাইরে গেছে, আমি কোনো দলেই ছিলাম না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে অবশ্যই খারাপ লেগেছে। নির্বাচিত না হলে একজন খেলোয়াড়ের খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক।’
গত মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ সময় কাটিয়েছিলেন আকবর। তার নেতৃত্বে রংপুর বিভাগ এনসিএলের টি-টোয়েন্টি ও চার দিনের—দুই প্রতিযোগিতাতেই শিরোপা জেতে। এরপরও জাতীয় পর্যায়ের কোনো দলে সুযোগ না পাওয়াটা তাই বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে হতাশায় আটকে থাকতে চান না আকবর। তার লক্ষ্য এখন পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আবার নির্বাচকদের নজরে আসা।
তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে আমি এটাকে এ বছর আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি। আমাকে প্রমাণ করতে হবে এবং যেসব জায়গায় আরও ভালো করতে পারি, সেগুলোতে উন্নতি করতে হবে।’
বাদ পড়ার কারণ ও নিজের খেলার কোন জায়গাগুলোতে উন্নতি প্রয়োজন, তা জানতে নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলেছেন আকবর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই আলোচনা ছিল ইতিবাচক।
‘আমি নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং জানতে চেয়েছি, তারা আমার মধ্যে কী ধরনের উন্নতি দেখতে চান। কথোপকথনটা ইতিবাচক ছিল। তবে বলেছি, ব্যক্তিগতভাবে খারাপ লেগেছে। আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি।’
আকবর অবশ্য মনে করেন, অন্তত কোনো একটি দলে জায়গা পাওয়ার সুযোগ তার ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের, এটিও মেনে নিচ্ছেন তিনি। ‘আমার মনে হয়, আমি সেখানে থাকতে পারতাম। তবে আবারও বলছি, এটা নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে আমার করার কিছু নেই।’
এখন নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোর দিকেই মনোযোগ দিতে চান আকবর। সামনে ম্যাচগুলোতে ভালো পারফরম্যান্স করে আবার জাতীয় দলের আলোচনায় ফিরতে চান তিনি।
‘আমি যেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেটা হলো সামনে আসা ম্যাচগুলোতে ভালো খেলা এবং নিজের নামটা আবার আলোচনায় নিয়ে আসা।’ ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তনের কথা ভাবছেন আকবর। সাধারণত নিচের দিকে ব্যাট করলেও এবার পাঁচ নম্বরে ব্যাট করার সুযোগ পেলে সেটি কাজে লাগাতে চান তিনি।
‘আমি পাঁচ নম্বরে ব্যাট করার চেষ্টা করব। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই।’
অর্থাৎ, একের পর এক দলে বাদ পড়ার হতাশাকে পাশে রেখে এখন পারফরম্যান্স দিয়েই নিজের জায়গা তৈরি করতে চান আকবর। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে নির্বাচকদের সামনে আবার নিজের দাবি তুলে ধরাই আপাতত তার লক্ষ্য।




