প্রায় এক মাস আগে ১১ জুন বাংলাদেশ সময় রাতে বেজেছিল বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম বাঁশি। শুরু হয়েছিল ফুটবল ঘিরে এক উম্মাদনা। থামেনি এখনো, চলবে আরও কিছুদিন। তবে একটা দিন বিরতি ছিল। একদিন বিরতির পর আজ আবার শুরু হচ্ছে মহাযজ্ঞের বাকি অংশ। কোয়ার্টার ফাইনাল। তারপর সেমিফাইনাল। সবশেষে সেই কাঙ্খিত লড়াই, ফাইনাল।
কোয়ার্টার ফাইনাল মানেই একেবারেই শেষের শুরু। সব মিলে আর মাত্র আটটা ম্যাচ। তারপর আবার চার বছরের বিরতি। আজ থেকে শুরু হওয়া কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো। স্পেন খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। নরওয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড আর সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শিরোপা থেকে মাত্র তিন ধাপ দূরে দলগুলো। বিশ্বকাপ উঁচু করে ধরতে আর মাত্র তিনটি জয় দরকার।
১০৪ ম্যাচের বিশ্বকাপ
গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট- সেই শুরু থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত একদিনের জন্য থামেনি বিশ্বকাপের চাকা। একটি শেষ হতেই আর একটি শুরু। টেলিভিশন দর্শকদের জন্য সাময়িক সময়ের বিরতি। উপায়ও ছিল না। বিশ্বকাপ এখন আর আগের মতো ১৬, ২৪ বা ৩২ দলে সীমাবদ্ধ নেই। বাড়তে বাড়তে ৪৮ দলে এসে থেমেছে। ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে বিদু্যৎ গতিতে, ছাড়িয়ে সেঞ্চুরি। সব মিলিয়ে ১০৪ ম্যাচ।

বিশ্বকাপ শুরু হতেই সময়ের হিসেব গিয়েছিল বদলে। দিন বা রাত নয়, সময়ের হিসাব চলছিল ম্যাচ ধরে। কোনো ম্যাচে ছিল গোলের বন্যা, কোনোটিতে গোল খরা। কোনটিতে জয়ের আনন্দ আবার কোনোটিতে বিদায়ের কান্না। কোনো ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকার টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি। আবার কোনো ম্যাচে একেবারে শেষ মুহুর্তে নিভু নিভু প্রদীপ তীব্র আলোর ঝলকানি। তার ঠিক বিপরীত দিকও ছিল। আশার আলো দপ করে নিয়ে যাওয়া।
ভুলের সুযোগ নেই
শুরুতে ভুলের সুযোগ ছিল। ভুল হলে শোধরানোরও সুযোগ ছিল। কিন্তু শেষ বত্রিশের লড়াই থেকে সেই সুযোগ আর নেই। কোয়ার্টার ফাইনালেও একই অবস্থা। ভুল মানেই আফসোস। ভুল মানেই বিদায়। অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনাল মানেই ফাইনাল। ফাইনালে যেমন জিতলে শিরোপা, হারলে হতাশা। এখানে জয় মানেই শিরোপা নয়, তবে শিরোপা জয়ের আশা বেঁচে থাকা, শিরোপার দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। জয় স্বপ্নকে নিয়ে সেমিফাইনালে। আর হার শেষ করে দেবে চার বছর বা তার থেকে বেশি সময়ের প্রস্তুতিকে। শেষ হয়ে যাবে কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন।


