ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি আছে মাত্র দুটি দলের। প্রথমে ভিতোরিও পোজোর ইতালি, এরপর পেলে-গারিঞ্চার ব্রাজিল। সেই তালিকায় নাম লেখানোর সুযোগ এখন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলছে লিওনেল স্কালোনির দল। ইতোমধ্যেই তারা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আর মাত্র তিনটি জয় পেলেই চতুর্থ বিশ্বকাপের পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের বিরল কীর্তি গড়বে আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, এই কাজটি কতটা কঠিন। ১৯৩৪ সালে নিজেদের মাটিতে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি। এরপর ১৯৩৮ সালে ফাইনালে হাঙ্গেরিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়ে আজ্জুরিরা।
ইতালির সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করে ব্রাজিল। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জেতে সেলেসাওরা। চার বছর পর ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপের ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৬৪ বছর। বিশ্বফুটবলে বহু পরাশক্তি এসেছে, অনেক দল ফাইনাল খেলেছে, কিন্তু কেউই শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি।
সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিল ফ্রান্স। ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছিল। কিন্তু লুসাইল স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে তাদের স্বপ্ন ভেঙে যায়। এর আগে ১৯৯০ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাও ১৯৮৬ সালের শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ পেয়েছিল। তবে ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় তারা।
এবার সেই ইতিহাস নতুন করে লেখার সুযোগ মেসিদের সামনে। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা যদি আরও তিনটি ম্যাচ জিততে পারে, তাহলে ইতালি ও ব্রাজিলের পাশে জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে অভিজাত এক ক্লাবে।


