ফ্রান্স ও মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল হবে কৌশলের লড়াই

বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল

বিশ্বকাপ ৪৮ দল থেকে নেমে এসেছে ৮ দলে। চরম নাটকীয়তায় শেষ হয়েছে শেষ ষোলর শেষ লড়াই। বিশ্বকাপে স্মার্ট ফুটবল খেলতে থাকা ফ্রান্স রাউন্ড অব ৩২’তে সুইডেনকে ৩-০ এবং রাউন্ড অব সিক্সটিনে প্যারাগুয়ের সাথে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। অপরদিকে মরক্কো রাউন্ড অব ৩২’তে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে ৩-২ (নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতা) ব্যবধানে এবং রাউন্ড অব সিক্সটিনে কানাডাকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে। শক্তি ও র‌্যাঙ্কিং এর বিচারে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও ফ্রান্স ও মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল হবে কৌশলের লড়াই।

টেকনিক্যাল তুলনাঃ

 তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগে এগিয়ে থাকবে ফ্রান্স, অন্যদিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দ্রুত ট্রানজিশনে এগিয়ে মরক্কো। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাচ ফ্রান্সের জন্য টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। ফ্রান্স বনাম মরক্কোর খেলাকে যদি ৬টি বিভাগে ভাগ করে দেখবো কে কোন বিভাগে এগিয়ে রয়েছে।

১. আক্রমন ভাগঃ

আক্রমন ভাগে যদি ফ্রান্স ৫ তারকা পায় তাহলে মরক্কো পাাবে ৪ তারকা তাহলে আক্রমন ভাগে ফ্রান্স এগিয়ে থাকছে।

২. মাঝ মাঠেঃ

মাঝ মাঠে ফ্রান্স পাবে ৪ তারকা আবার মরক্কোও পাবে ৪ তারকা তাহলে এই বিভাগে উভয় দল সমান অবস্থানে থাকবে।

৩. রক্ষন ভাগঃ এই বিভাগেফ্রান্স পাবে ৪ তারকা আর মরক্কো পাবে ৫ তারকা তাহলে রক্ষণভাগে মরক্কো এগিয়ে থাকবে।

৪.কাউন্টার অ্যাটাকঃ এই বিভাগেফ্রান্স পাবে ৪ তারকা আর মরক্কো পাবে ৫ তারকা অতএব কাউন্টার অ্যাটাকে মরক্কো এগিয়ে থাকছে।

৫. স্কোয়াড গভীরতাঃ এ খানে ফ্রান্স ৫ তারকা নিয়ে এগিয়ে থাকবে মরক্কোর ৪ তারকার তুলনায়।

৬. বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতাঃ এই বিভাগে ফ্রান্স ৫ তারকা নিয়ে এগিয়ে থাকবে তার বিপরীতে মরক্কো ৪ তারকা তার মানে এখানেও ফ্রান্স এগিয়ে থাকবে। 

উপরের ৬ বিভাগের মধ্যে ফ্রান্সকে দেখতে পাচ্ছি ১, ৫ এবং ৬ নম্বর এই ৩টি বিভাগে এগিয়ে রয়েছে অপরদিকে মরক্কো ৩ এবং ৪ নম্বর বিভাগে এগিয়ে থাকছে। অন্যদিকে ২ নম্বর বিভাগে উভয় দলই সমান অবস্থানে রয়েছে। সবমিলিয়ে ফ্রান্সকেই এগিয়ে রাখতে হবে।

 ফ্রান্সের শক্তিঃ কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও ব্র্যাডলি বারকোলার মতো দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডদের কারণে ফ্রান্সের উইং আক্রমণ অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। আবার যেমন আক্রমনে বৈচিত্র-উইং, কাট-ইন, থ্রু বল এবং লংশট বেশ চমৎকার। আবার সাইড বেঞ্চ অনেক শক্তিশালী যা ম্যাচের শেষ ভাগেও আক্রমনের গতি ধরে রাখতে পারে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ধারাবাহিক জয়ে তারা আত্নবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে যা ম্যাচে টনিক হিসেবে কাজ করবে।

মরক্কোর শক্তিঃ মরক্কোকে বলা হয়বিশ্বের অন্যতম সুসংগঠিত ডিফেন্সিভ ইউনিট। বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত রক্ষণে ফিরে যেতে পারে। মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির ওভারল্যাপ উইং থেকে আক্রমণ বড় ভুকিমা রাখেতে পারে, তাছাড়া মিডফিল্ডে বল দখল ধরে রেখে সুযোগ তৈরি করতে পারে, যার প্রমান মরক্কো দিয়েছে নেদারল্যান্ডস ও কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলে।

মূল দ্বৈরথঃ এমবাপ্পে বনাম হাকিমির মধ্যে সম্ভবত ম্যাচের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত লড়াইটা হতে পারে। ফ্রান্সের উইং আক্রমণ বনাম মরক্কোর জমাট রক্ষণ ভাগ। মরক্কো যদি মাঝমাঠে ফ্রান্সের গতি কমিয়ে দিতে পারে, তাহলে ম্যাচ দীর্ঘায়িত হতে পারে।

সম্ভাব্য কৌশলঃ

ফ্রান্সের ফরমেশনঃ ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১। তাছাড়া দ্রুত উইং পরিবর্তন এবং এমবাপ্পেকে স্পেসে বল দেওয়া এবং শুরু থেকেই উচ্চ প্রেসিং ফ্রান্সের আক্রমনের অনন্য দিক।  

মরক্কোর ফরমেশনঃ ৪-১-৪-১ এবং ৪-৩-৩ তবে ১ম ফরমেশনের সাথে ফ্রান্সের ২য় ফরমেশন মিলে যেতে পারে। তাছাড়া মরক্কো নিচু ব্লকে ডিফেন্ড করে দ্রুত কাউন্টারে যেতে পারে আবার সেট পিস থেকে গোলের সুযোগের অপেক্ষাতেও থাকে।  

কাগজেকলমে কে এগিয়ে?

 ফ্রান্স তাদের আক্রমণের গভীরতা, বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবং স্কোয়াডের মানে একটু এগিয়ে থাকবে তবে মরক্কোর সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত ট্রানজিশনের কারণে একেবারেই একপেশে সুযোগ পাবে না ফ্রান্স। এবারের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল যে ফ্রান্সের প্রথম বড় পরীক্ষা তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর যদি এটলাস লায়ন্সরা সুযোগের সৎব্যাবহার করে এগিয়ে যা তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মরক্কো যদি প্রথমে গোল করতে পারে, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে যেতে পারে। আবার যদি ফ্রান্স আগে এগিয়ে যায়, তাদের আক্রমণভাগের মান বিবেচনায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফ্রান্সের কাছেও চলে যেতে পারে। তবে আমার মনে হয় ১০ জুলাই রাত ২টায় ফুটবল প্রেমীরা একটা ক্লাসিক্যাল লড়াই দেখতে যাচ্ছে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles