জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ ৩টি ম্যাচ খেলে ৩টিতেই পরাজিত! আপনি হয়তো ভাবছেন ১টি টেস্ট ও একটি ওয়ানডে খেললো তাহলে ৩টি ম্যাচ কিভাবে হল, তাই না? দেখুন টেস্ট ক্রিকেটে তো একটি দল ২টি ইনিংস পায় সেই দুটি ইনিংসে কি বাংলাদেশ আপ টু দ্য ম্যার্ক ব্যাটিং করতে পেরেছে? উত্তর না, টেস্ট ম্যাচে কি জয় পেয়েছে উত্তর না, আপনি যদি পারফর্ম্যান্সের বিবেচনায় ধরেন তাহলে তো ১ টেস্টে ২টি ইনিংস খেলে পরাজিত হয়েছেন তাই না? আর প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে তো ১৪২ রান তাড়া করতে নেমে ১১৬ রানে অলআউট হল তাহলে ব্যাপরটা কি দাঁড়ালো? টেস্টে ২ ইনিংসের ২ ম্যাচ আর প্রথম ওয়ানডে এই হল ৩ ম্যাচ, কি মিলেছে তো? তাই ব্যাপরটা আমরা এভাবেও হিসেবে ধরে নিতে পারি যে, জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ ১ টেস্ট ও ১ ওয়ানডে খেলে ৩টিতেই পরাজিত!

জিম্বাবুয়ের সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধুত্ব অনেক দিনের এত ক্রিকেট ম্যাচ জিম্বাবুয়ের সাথে খেলা হয়েছে যে কথিত আছে বাংলাদেশের যখন র্যাঙ্কিং এ উন্নতি দরকার হত তখন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতো ফলাফল ও হাতে নাতে পেয়ে যেত। সেই জিম্বাবুয়ে বেশ কয়েক বছর টেস্ট খেলা বাদ দিয়ে শুধু ওয়ানডে ও টি-২০ খেলেছে এখন আবার টেস্টে ফিরে এসেছে। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে এমন ভাবে পরাজিত করলো ইনিংস ও ৮৫ রানে তাতে মনে হল এই বাংলাদেশ যেন ২০০৩-২০০৪ সালের টেস্ট খেলছে। আর প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে যেভাবে ১৪১ রানে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করে নিজেরা আবার ১১৬ রানে অলআউট হয়ে ২৫ রানে পরাজিত হল তা যেন ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে রাজ্যের বিস্ময়! নাহিদ রানা, তাসকিন যেভাবে বাংলাদেশকে জয়ের উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন নাহিদ ৬ উইকেট এবং তাসকিন ২ উইকেট নিয়ে সেই সুযোগ বাংলাদেশ হেলায় হারিয়ে সিরিজ জয়ের সঙ্কায় পড়ে আজ ২য় ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামছে। তারপরও সব শেষ হয়ে যায়নি কারণ আজ জিতলে বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের সুযোগ পাবে। আবার সামনে টি-২০ সিরিজ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের জয়ের ধারায় ফেরা দরকার আর তা হতে পারে আজকের ম্যাচ।

বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে এখন পর্যন্ত ৮২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে যার মধ্যে বাংলাদেশ ৫১টি আর জিম্বাবুয়ে ৩১টিতে জয় লাভ করেছে। আর দেশের মাটিতে বাংলাদেশের ৪৪টি ম্যাচের ৩৩টি জয় ও ১১টি পরাজয়, জিম্বাবুয়েতে গিয়ে বাংলালেশ ৩৫টি ম্যাচের মধ্যে ১৭টি জয় আর ১৮টিতে পরাজিত হয়েছে। দু-দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৯টি ওয়ানডে সিরিজ হয়েছে যার মধ্যে বাংলাদেশ ১২টি আর জিম্বাবুয়ে ৭টি সিরিজ জয় লাভ করেছে। অপরদিকে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ৯টি সিরিজের মধ্যে জিম্বাবুয়ে অবশ্য ৬টি সিরিজ জিতে এইখানে এগিয়ে রয়েছে আর বাংলাদেশ ৩টি সিরিজ জিতেছে। দু-দেশের মধ্যকার চলমান সিরিজ শুরুর আগে পেসার তাসকিন বলেছিলেন যে, জিম্বাবুয়ের মাটিতে জিম্বাবুয়ে শক্ত প্রতিপক্ষ তাদের মাটিতে বিশেষ করে হারারে স্পোর্টস গ্রাউন্ডে জিম্বাবুয়েকে হারানো কঠিন, তাহলে কি তাসকিনের কথাকে বাংলাদেশ গুরুত্ব দেয়নি? জানিনা থিম ট্যাং এই সফরকে কিভাবে নিয়েছে? তবে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে রাত জেগে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখে সকালে ব্যাটিং করেছে। ভাবটা এমন যে ওহ্ জিম্বাবুয়ে? ঠিক আছে ম্যাচ জিতিয়ে দিব! ব্যাপারটা কিন্তু এত সহজ নয়। দেখা যাক বাংলাদেশ যদি আজ জিততে পারে তাহলে সঞ্জিবনী শক্তি নিয়ে পরের ম্যাচ গুলোতে খেলতে পারবে। বাংলাদেশের জন্য শুভ কামনা রইল। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে।


