শুরুটা আশাব্যঞ্জক হলেও পরের তিন কোয়ার্টারে আর লড়াই জমাতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা
এশিয়ান গেমসের হকি মিশনটা জয় দিয়ে শুরু করতে পারল না বাংলাদেশ। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারে গোল ঠেকিয়ে আশা তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ হকি দলকে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরলাইন ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫-০।
র্যাঙ্কিং ও শক্তির বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া। তাই ম্যাচ শুরুর আগেই কঠিন চ্যালেঞ্জের কথা জানা ছিল। তবে প্রথম ১৫ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ যেভাবে কোরিয়ার আক্রমণ সামলেছে, তাতে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু দ্বিতীয় কোয়ার্টার থেকেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ভাঙল বাংলাদেশের প্রতিরোধ
প্রথম কোয়ার্টারে কোনো দলই গোলের দেখা না পেলেও দ্বিতীয় কোয়ার্টারে বাংলাদেশের রক্ষণে কিছু ভুলের সুযোগ নেয় দক্ষিণ কোরিয়া। পরপর দুইবার জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় এশিয়ার শক্তিশালী দলটি।
বাংলাদেশও আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে। কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলো কাজে লাগানো যায়নি। ফলে বিরতির আগে ব্যবধান কমানোর সুযোগ হারায় বাংলাদেশ।
গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ
দ্বীন ইসলাম ইমন গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি। আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন মিমো। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার মূল্য শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের হার দিয়ে দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
দীর্ঘ সময় পর জাতীয় দলে ফিরে আসা রাসেল মাহমুদ জিমিও নিজের সামর্থ্যের ছাপ রাখতে পারেননি।
বিরতির পর আরও দুই গোল
তৃতীয় কোয়ার্টারে ব্যবধান আরও বাড়ায় দক্ষিণ কোরিয়া। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ওপর চাপ বাড়িয়ে এই পর্বে আরও দু’টি গোল আদায় করে নেয় তারা।
শেষ ১৫ মিনিটেও কোরিয়ার আক্রমণ থামাতে পারেনি বাংলাদেশ। চতুর্থ কোয়ার্টারে আরও একটি গোল হলে ৫-০ ব্যবধান নিশ্চিত হয়।
প্রথম কোয়ার্টারে গোলশূন্য থাকার পরও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ থেকে বড় ব্যবধানের হার নিয়ে ফিরতে হয় বাংলাদেশকে।
ডাগআউটে ছিলেন না সহকারী কোচ অলিভার
ম্যাচে বাংলাদেশের কোচিং স্টাফ নিয়েও ছিল কিছুটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। সহকারী কোচ অলিভারের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রস্তুত না থাকায় তিনি ডাগআউটে দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি। ফলে তাকে মাঠের বাইরে গ্যালারিতে বসেই ম্যাচ দেখতে হয়েছে।
সহকারী কোচের মতো গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য ডাগআউটে না থাকায় ম্যাচ পরিচালনায় এর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, সেটিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
তাহির জামানের চোখে বাংলাদেশের সমস্যা
বাংলাদেশের ম্যাচ দেখতে গিফু হকি স্টেডিয়ামের প্রেস বক্সে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক তাহির জামান। বাংলাদেশের হকি সম্পর্কে দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে তার।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি মূলত দুটি জায়গার কথা উল্লেখ করেছেন, সুযোগ কাজে লাগানো এবং পুরো ম্যাচে ফিটনেসের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।
তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ শুরুতে ভালো খেললেও সেই পারফরম্যান্স পুরো ম্যাচে ধরে রাখতে পারেনি। বড় দলের বিপক্ষে গোলের সুযোগ তৈরি হলে সেটিকে কাজে লাগানো জরুরি। পাশাপাশি পুরো দলের ফিটনেসের মানও একই পর্যায়ে থাকা প্রয়োজন।
প্রস্তুতি ম্যাচের ঘাটতি দেখছেন কোচ পিটার
বাংলাদেশ দলের দায়িত্বে আবারও ফিরেছেন জার্মান কোচ গেরহার্ড পিটার। এশিয়ান গেমসের আগে বাংলাদেশ ঢাকায় অনুশীলন করেছে, পাশাপাশি চীনে গিয়ে প্রস্তুতিও নিয়েছে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর প্রস্তুতি ম্যাচের ঘাটতিকেই অন্যতম সমস্যা হিসেবে দেখছেন কোচ পিটার। তার মতে, আরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকলে দলটি উপকৃত হতো।
চীনে বাংলাদেশ পাঁচটির বেশি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি। কোচের মতে, বড় দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নিয়মিত উচ্চমানের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।
জাপানে কঠিন সূচিতে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের ম্যাচটি শুরু হয়েছিল জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায়। এশিয়ান গেমসের মূল শহর নাগোয়া থেকে হকির ভেন্যু গিফু হকি স্টেডিয়ামের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার।
গেমস কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদেরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভেন্যুতে যেতে হয়েছে। ট্রেন ও বাস পরিবর্তন করে নাগোয়া থেকে গিফু পৌঁছাতে লেগেছে দুই ঘণ্টারও বেশি সময়।
তবে মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশের শুরুটা যতটা আশাব্যঞ্জক ছিল, ম্যাচের শেষটা ততটাই হতাশার হয়েছে।
সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে হার দিয়ে এশিয়ান গেমস শুরু করল বাংলাদেশ। তবে টুর্নামেন্টের শুরুতেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পাওয়া এই ম্যাচ থেকে ভুলগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে গোলের সুযোগ কাজে লাগানো, রক্ষণভাগের ভুল কমানো এবং পুরো ম্যাচে একই ধরনের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখাই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
প্রথম কোয়ার্টারে যে লড়াকু মানসিকতার আভাস দিয়েছিল বাংলাদেশ, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সেই পারফরম্যান্স দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারলেই এশিয়ান গেমসে ভালো কিছু করার সুযোগ তৈরি হবে।


