ভারত থেকে আসছে ক্রিকেটারদের হেলমেট

ঘরোয়া ক্রিকেটকে আরও পেশাদার, আকর্ষণীয় ও দলভিত্তিক পরিচয়ে উপস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দলগুলোর জন্য ব্যাগি ক্যাপ চালুর পর এবার প্রতিটি দলকে দেওয়া হচ্ছে বিশেষভাবে তৈরি কাস্টমাইজড হেলমেট। ভারত থেকে তৈরি করে আনা এসব হেলমেট আগামী সপ্তাহ থেকেই দলগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হেলমেটগুলো শুধু এবারের এনসিএলের জন্য ব্যবহার করা হবে না। সংশ্লিষ্ট দলের জন্য এগুলো স্থায়ীভাবে রাখা হবে। ফলে ভবিষ্যতের মৌসুমেও দলীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে এসব হেলমেট ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

তারকাদের ব্যবহৃত Shrey হেলমেট

এনসিএলের ক্রিকেটারদের জন্য যে হেলমেট সরবরাহ করা হচ্ছে, সেটি ভারতের জনপ্রিয় ‘শ্রেয়’  Shrey ব্র্যান্ডের। ক্রিকেটের নিরাপত্তা সরঞ্জামের বাজারে পরিচিত এই ব্র্যান্ডের হেলমেট আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক তারকা ক্রিকেটার ব্যবহার করে থাকেন।

ভারতের বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, ঋষভ পন্ত ও কেএল রাহুলসহ বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে মাঠে ‘শ্রেয়’-এর হেলমেট ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

এবার সেই ব্র্যান্ডের হেলমেটই ব্যবহার করবেন বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররা। তবে সাধারণ হেলমেটের পরিবর্তে এনসিএলের দলগুলোর জন্য এগুলো বিশেষভাবে কাস্টমাইজড করা হচ্ছে। অর্থাৎ হেলমেটেও থাকবে সংশ্লিষ্ট দলের নিজস্ব পরিচয়ের ছাপ।

শুধু নিরাপত্তা নয়, দলীয় পরিচয়ও

ক্রিকেটে হেলমেটের প্রধান উদ্দেশ্য অবশ্যই খেলোয়াড়ের মাথার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দ্রুতগতির বোলিং, বাউন্সার কিংবা শর্ট বল মোকাবিলার সময় ব্যাটসম্যানদের মাথায় আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আধুনিক ক্রিকেটে তাই মানসম্মত হেলমেট খেলোয়াড়দের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম।

তবে বিসিবির এবারের উদ্যোগে নিরাপত্তার পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে দলীয় পরিচয়ও।

এনসিএলের প্রতিটি দলকে আলাদা করে চেনানোর জন্য পোশাক ও সরঞ্জামে নির্দিষ্ট পরিচয় তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ব্যাগি ক্যাপের পর কাস্টমাইজড হেলমেট যুক্ত হওয়ায় মাঠে দলগুলোর ভিন্নতা আরও দৃশ্যমান হবে।

একই দলের ক্রিকেটারদের নির্দিষ্ট নকশার হেলমেট ব্যবহার করতে দেখা গেলে টেলিভিশন সম্প্রচার থেকে শুরু করে মাঠের দর্শকদের কাছেও দলীয় পরিচয় সহজে ফুটে উঠবে।

আগামী সপ্তাহেই বিতরণ

বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে দলগুলোর হাতে হেলমেট তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হবে।

বিদেশে বিশেষভাবে তৈরি করা হেলমেটগুলো বাংলাদেশে আসার পর সংশ্লিষ্ট দলগুলোর ক্রিকেটারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। খেলোয়াড়দের প্রয়োজন অনুযায়ী সাইজের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

কোনো ক্রিকেটারের জন্য নির্ধারিত হেলমেটের সাইজ ঠিক না হলে সেটি পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। ফলে শুধু নির্দিষ্ট সংখ্যক হেলমেট সরবরাহ করেই দায়িত্ব শেষ করছে না বিসিবি; খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

নতুন ক্রিকেটার এলেও মিলবে হেলমেট

এনসিএলের দলগুলোর খেলোয়াড় তালিকা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। নতুন মৌসুমে কোনো ক্রিকেটার দলে যোগ দিতে পারেন, আবার কেউ দল পরিবর্তনও করতে পারেন। তাই ভবিষ্যতের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রেখেছে বিসিবি।

কোনো নতুন খেলোয়াড় দলে যোগ দিলে তার জন্যও সংশ্লিষ্ট দলের নকশা অনুযায়ী নতুন কাস্টমাইজড হেলমেট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

এর ফলে দলভিত্তিক সরঞ্জামের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। একজন নতুন ক্রিকেটার দলে যোগ দিলেও তাকে দলের অন্য ক্রিকেটারদের থেকে আলাদা কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে না।

ঘরোয়া ক্রিকেটে পেশাদারিত্বের বার্তা

বাংলাদেশের ক্রিকেট কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তরগুলোর একটি হলো ঘরোয়া ক্রিকেট। জাতীয় দলের পাইপলাইন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি ঘরোয়া প্রতিযোগিতার উপস্থাপন, দলীয় সংস্কৃতি ও পেশাদার পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ।

বিসিবির সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো সেই জায়গাতেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দলগুলোর জন্য আলাদা ব্যাগি ক্যাপ, কাস্টমাইজড হেলমেট এবং ভবিষ্যতে দলভিত্তিক অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে এনসিএলকে আরও সংগঠিত ও পেশাদারভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

একজন তরুণ ক্রিকেটার যখন এনসিএলে খেলবেন, তখন শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্য নয়, একটি নির্দিষ্ট দলের পরিচয় নিয়েও মাঠে নামবেন। দীর্ঘমেয়াদে এটি দলীয় সংস্কৃতি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থায়ী সরঞ্জাম হিসেবে থাকবে হেলমেট

বিসিবির পরিকল্পনার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো, হেলমেটগুলো কেবল একটি টুর্নামেন্টের জন্য নয়। প্রতিটি দলের জন্য সরঞ্জামগুলো স্থায়ীভাবে রাখা হবে।

অর্থাৎ একটি দলের জন্য যে কাস্টমাইজড হেলমেট তৈরি করা হচ্ছে, সেটি ভবিষ্যতেও সেই দলের ক্রিকেটাররা ব্যবহার করতে পারবেন। প্রয়োজন হলে নতুন ক্রিকেটারের জন্য একই নকশা ও পরিচয় বজায় রেখে নতুন হেলমেট তৈরি করা হবে।

এতে দলগুলোর একটি নির্দিষ্ট ভিজ্যুয়াল পরিচয় গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক মানের সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ

ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্রিকেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত ব্র্যান্ডের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগও এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

বিশেষ করে এনসিএলে অনেক তরুণ ক্রিকেটার থাকেন, যারা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের বিবেচনায় আসতে পারেন। তাদের আন্তর্জাতিক মানের সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের ক্রিকেটে কাজে লাগতে পারে।

তবে হেলমেটের ব্র্যান্ডের পাশাপাশি সঠিক ফিটিং, খেলোয়াড়ের স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিসিবির সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইজ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা সেই প্রয়োজনীয়তারই একটি অংশ।

বদলে যাচ্ছে এনসিএলের চেহারা?

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শক আগ্রহ, মাঠের পরিবেশ এবং টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ডিং আরও উন্নত করার আলোচনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলগুলোর নিজস্ব জার্সি, ক্যাপ, হেলমেট ও অন্যান্য সরঞ্জাম দলীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘরোয়া ক্রিকেটেও সেই সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবার দেখা যাচ্ছে।

ব্যাগি ক্যাপের পর কাস্টমাইজড হেলমেট যুক্ত হওয়ায় এনসিএলের দলগুলোকে আলাদা করে উপস্থাপনের সুযোগ আরও বাড়বে।

এটি শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং ভবিষ্যতে দলভিত্তিক আরও কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে ভারত থেকে বিশেষভাবে তৈরি Shrey হেলমেট এনে এনসিএলের দলগুলোর হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ ঘরোয়া ক্রিকেটের সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা ও দলীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles