আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান হলেন জিম্বাবুয়ের তাভেঙ্গা মুকুহলানি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের চেয়ারম্যান তাভেঙ্গা মুকুহলানি। আইসিসি বোর্ডের সদস্যদের আস্থায় নতুন এই দায়িত্বে আসা মুকুহলানি আগামী ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। ইমরান খাজার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আইসিসির গুরুত্বপূর্ণ এই পদে দায়িত্ব পেলেন তিনি।

মুকুহলানির এই নিয়োগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনে জিম্বাবুয়ের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে এবারই প্রথম কোনো জিম্বাবুইয়ান দায়িত্ব পেলেন। দীর্ঘদিন ধরে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকা মুকুহলানি এরই মধ্যে আইসিসি বোর্ডে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে বৈশ্বিক ক্রিকেট প্রশাসনে তার ভূমিকা আরও বিস্তৃত হলো।

ক্রিকেট প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা

তাভেঙ্গা মুকুহলানি বর্তমানে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের ক্রিকেটের প্রশাসনিক কাঠামোয় দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তিনি সক্রিয়। আইসিসি বোর্ডে জিম্বাবুয়ের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আলোচনায় অংশ নিয়ে আসছেন।

আইসিসির ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার্স (এফঅ্যান্ডসিএ) কমিটি এবং নমিনেশনস কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন মুকুহলানি। এ ছাড়া আইসিসির এইচআর অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটির চেয়ারম্যান তিনি। ফলে আইসিসির আর্থিক, প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

এই অভিজ্ঞতাই ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে তার নতুন দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে আইসিসি।

আফ্রিকান ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব

মুকুহলানি এমন এক সময়ে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন, যখন আফ্রিকার ক্রিকেটকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় আয়োজন সামনে রয়েছে। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া।

এই বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৪ বছর পর ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ওয়ানডে আসর আবারও আফ্রিকার মাটিতে ফিরবে। ফলে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ক্রিকেটীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং আফ্রিকার দেশগুলোর ক্রিকেটের প্রসারে আগামী কয়েক বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং আফ্রিকান অঞ্চলের ক্রিকেট সম্পর্কে মুকুহলানির দীর্ঘদিনের ধারণা এই সময়ে আইসিসির জন্য বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি আফ্রিকান ক্রিকেটের বিভিন্ন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।

জয় শাহর অভিনন্দন

মুকুহলানির নিয়োগের পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। তিনি বলেন, আইসিসি বোর্ডের সদস্যদের আস্থা অর্জন করেছেন মুকুহলানি। ক্রিকেট প্রশাসনে তার অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক ক্রিকেট সম্পর্কে ধারণা এবং খেলাটির উন্নয়নে তার অঙ্গীকার আইসিসি বোর্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

জয় শাহর এই বক্তব্যে মুকুহলানির প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বৃহত্তর পরিসরে তার ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ের প্রশাসনে আফ্রিকার একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠকের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ব ক্রিকেটের ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।

মুকুহলানির প্রতিক্রিয়া

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর মুকুহলানি আইসিসি বোর্ডের সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বোর্ডের সদস্যদের আস্থা তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বলে উল্লেখ করে তিনি ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে ক্রিকেটের স্বার্থে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন।

তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার প্রত্যয়ের কথাও উঠে এসেছে। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি এবার তাকে বৈশ্বিক ক্রিকেট প্রশাসনের আরও বড় পরিসরে কাজ করতে হবে।

জিম্বাবুয়ের জন্য নতুন মর্যাদা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের অবস্থান গত কয়েক দশকে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে ক্রিকেট প্রশাসনে মুকুহলানির উত্থান দেশটির জন্য নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রথমবারের মতো কোনো জিম্বাবুইয়ানের নিয়োগ দেশটির ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য বিশেষ মর্যাদার বিষয়।

এর মাধ্যমে শুধু জিম্বাবুয়েই নয়, আফ্রিকা অঞ্চলের ক্রিকেট প্রশাসনের প্রতিনিধিত্বও আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ে আরও দৃশ্যমান হলো। বিশেষ করে ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আফ্রিকার ক্রিকেটের উন্নয়ন, প্রতিভা বিকাশ এবং ক্রিকেট অবকাঠামোর প্রসারে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সামনে বড় দায়িত্ব

২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন মুকুহলানি। এই সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কাজে তাকে যুক্ত থাকতে হবে। একই সময়ে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও এগিয়ে যাবে।

দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ওই বিশ্বকাপ আফ্রিকান ক্রিকেটের জন্য একটি বড় মঞ্চ। বিশ্বকাপের আয়োজন সফল করার পাশাপাশি আফ্রিকা মহাদেশে ক্রিকেটের পরিধি বাড়ানো, সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেটের উন্নয়নে মুকুহলানির নতুন দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে তাভেঙ্গা মুকুহলানির আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান হওয়া জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের জন্য যেমন ঐতিহাসিক ঘটনা, তেমনি আফ্রিকান ক্রিকেট প্রশাসনের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন থেকে এবার বৈশ্বিক ক্রিকেটের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরও বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ পেলেন তিনি। তার নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা আগামী দিনগুলোতে আইসিসির কার্যক্রম এবং বিশেষ করে আফ্রিকান ক্রিকেটের উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles