এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের দুঃস্বপ্ন যেন কাটছেই না। প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারের পর এবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হেরেছে ঋতুপর্ণা-তহুরারা। দুই ম্যাচে বাংলাদেশের জালে ঢুকেছে ১৬ গোল। বিপরীতে প্রতিপক্ষের জালে এখনো কোনো গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের শুরুটাই হয়েছিল বড় ধাক্কা দিয়ে। ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধেই ৭ গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে দলের কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলারকে একাদশে না রাখায় কোচ পিটার বাটলারের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে অবশ্য সেই ভুল থেকে সরে এসে সিনিয়র খেলোয়াড়দের নিয়েই একাদশ সাজান বাটলার। তাতে প্রথমার্ধে তুলনামূলক সংগঠিত ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ কোরিয়া বলের দখল ধরে রাখলেও বাংলাদেশও আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে। প্রথমার্ধে কয়েকটি আক্রমণ এবং শট অন টার্গেটও ছিল বাংলাদেশের।
তবে ১৭ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। কর্নার থেকে আসা বলে বক্সের মধ্যে জটলার সুযোগ নিয়ে হেডে গোল করেন কিম মিন-জি। গোলরক্ষক রুপ্না চাকমা চেষ্টা করেও বলটি ঠেকাতে পারেননি।
এশিয়ান গেমসে কোরিয়ার চাপ সামলাতে মরিয়া বাংলাদেশ
এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে আগের ম্যাচের তুলনায় রক্ষণভাগে ছিল বেশি শৃঙ্খলা। গোলরক্ষক রুপ্না চাকমাও কয়েকটি ভালো সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন। বাংলাদেশের হয়ে ঋতুপর্ণা চাকমাও মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছেন। বল নিয়ে তাঁর গতিময় দৌড় দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণে কিছুটা চাপ তৈরি করলেও গোলের সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দক্ষিণ কোরিয়া। বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের মাঝ দিয়ে থ্রু বল পেয়ে গোল করেন কোরিয়ার ফরোয়ার্ড। গোলটির সময় গোলদাতার অবস্থান অফসাইড মনে হলেও বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে কোনো আপিল করা হয়নি। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
বিরতির পর অবশ্য ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। ৬৫ মিনিটে তৃতীয় গোল করে দক্ষিণ কোরিয়া। এরপর নিয়মিত বিরতিতে আরও তিন গোল করে তারা। ইনজুরি সময়ে ষষ্ঠ গোলটি হলে ৬-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ কোরিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশও একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল। সুইডেনপ্রবাসী ফুটবলার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর কোনাকুনি শট অল্পের জন্য পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সামনে এখন শেষ ম্যাচ। ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে খেলবে ঋতুপর্ণার দল। গত বছর মিয়ানমারকে হারিয়েই প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ।
এশিয়া কাপে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এশিয়ান গেমসে দুই কোরিয়ার বিপক্ষে ১৬ গোল হজম করে কোনো গোল করতে না পারায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি, কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।




