২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে জয় পেলো ল্যাম্পার্ডের কভেন্ট্রি

অপেক্ষার অবসান। ২৫ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে জয়ের দেখা পেল কভেন্ট্রি সিটি। ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের দল শনিবার নটিংহাম ফরেস্টকে ১-০ গোলে হারিয়ে মৌসুমে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে। জয়টি শুধু তিন পয়েন্টের নয়, দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষারও অবসান।

ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন রক্ষণের খেলোয়াড় জে দাসিলভা। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে গোলটি আসে। গোলরক্ষক কার্ল রাশওয়ার্থের দূরপাল্লার নিখুঁত লং বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দাসিলভা বক্সের দিকে এগিয়ে যান। এরপর ভেতরে ঢুকে বাঁকানো শটে ফরেস্টের গোলরক্ষক মাতস সেলসকে পরাস্ত করেন তিনি।

মৌসুমের শুরুটা অবশ্য কোভেন্ট্রির জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে প্রিমিয়ার লিগে ওঠা দলটি প্রথম চার ম্যাচেই হেরেছিল। তার ওপর সূচিতে ছিল আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ। গত সপ্তাহে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের কাছে ঘরের মাঠে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

চার ম্যাচ শেষে কোভেন্ট্রির পয়েন্ট ছিল শূন্য, কোনো গোলও করতে পারেনি তারা। গোল ব্যবধান ছিল -১০। ফলে দলের শুরু নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ফরেস্টের বিপক্ষে দাসিলভার গোল যেন মুহূর্তেই সব বদলে দিল।

শেষ দিকে অবশ্য নাটক জমে ওঠে। নটিংহাম ফরেস্টের ইগর জেসুস গোল করে সমতা ফেরানোর দাবি করেছিলেন। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, ইগর জেসুস কালেব ইয়েরেনকিকে পায়ে আঘাত করায় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। সেই সিদ্ধান্তেই বেঁচে যায় কোভেন্ট্রি।

শেষ বাঁশির পর তাই স্বস্তির পাশাপাশি উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন কোভেন্ট্রির খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাওয়ার আগে এই জয় দলটিকে শুধু তিন পয়েন্টই দেয়নি, প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার আত্মবিশ্বাসও দিয়েছে।

ম্যাচ শেষে ল্যাম্পার্ড বলেন, জয়টি তাঁর দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম চার ম্যাচে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে হারার পর নেতিবাচক হয়ে পড়া সহজ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে অনেক খেলোয়াড়ের জন্য এটি প্রিমিয়ার লিগে প্রথম মৌসুম হওয়ায়, তারা এই পর্যায়ে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে—এই বিশ্বাসটা তৈরি হওয়া জরুরি বলেও জানান কোভেন্ট্রি কোচ।

প্রিমিয়ার লিগে কভেন্ট্রির সর্বশেষ জয় এসেছিল ২০০১ সালের এপ্রিলে, সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর কয়েক ম্যাচের মধ্যেই অবনমন ঘটে তাদের।

এরপরের বছরগুলোতে কভেন্ট্রির পতন ছিল আরও গভীর। একসময় চতুর্থ স্তর পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল ক্লাবটি। দীর্ঘ সংগ্রামের পর গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে প্রিমিয়ার লিগে ফিরে এসেছে তারা। তাই ২৫ বছর পর আবার ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে জয়ের স্বাদ পাওয়ার মুহূর্তটি সমর্থকদের কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে।

তবে ল্যাম্পার্ড জানেন, একটি জয়েই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়নি। খেলোয়াড় হিসেবে চেলসির হয়ে তিনবার প্রিমিয়ার লিগ জেতা এই কোচও তাই সতর্ক। তাঁর মতে, এটি কেবল শুরু। প্রথম চার ম্যাচে শূন্য পয়েন্ট পাওয়ার পর এই জয় দলের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাওয়ার আগে খেলোয়াড়দের একটু বিশ্রাম ও ইতিবাচক অনুভূতি পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।

কভেন্ট্রির সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হলো এই আত্মবিশ্বাসকে ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া। ২৫ বছর পর পাওয়া এই ঐতিহাসিক জয় তাদের প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকার লড়াইয়ের নতুন সূচনা হতে পারে।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles