শুরুটা যেন স্বপ্নের মতোই হচ্ছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের। বুন্দেসলিগার নতুন মৌসুমে চার ম্যাচ, চার জয়। পয়েন্টের হিসাবে শতভাগ সাফল্য। ভিএফবি স্টুটগার্টের মাঠে কঠিন পরীক্ষায় নেমে ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে লিগের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে নিকো কোভাচের দল। ম্যাক্সিমিলিয়ান বেয়ারের একমাত্র গোলই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া স্টুটগার্টের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচটি যে সহজ হবে না, তা আগেই জানা ছিল। ঘরের মাঠে স্টুটগার্ট বরাবরই কঠিন প্রতিপক্ষ, তার ওপর ডর্টমুন্ডকে পয়েন্ট ধরে রাখতে হলে এমন ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হতো। শেষ পর্যন্ত সেই পরীক্ষায় দারুণভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছে ডর্টমুন্ড। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে বেয়ারের কাছ থেকে। তাঁর গোলই এনে দেয় পূর্ণ তিন পয়েন্ট।
চার ম্যাচ শেষে ডর্টমুন্ডের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট। মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে একটিও পয়েন্ট না হারিয়ে পুরো ১২ পয়েন্ট তুলে নেওয়া বুন্দেসলিগায় এবার শুধু তাদেরই কৃতিত্ব। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ দ্বিতীয় ম্যাচে সদ্য বুন্দেসলিগায় ওঠা শালকের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করায় তাদের শুরুটা ডর্টমুন্ডের মতো নিখুঁত হয়নি।
জার্মানির সর্বোচ্চ লিগে, ডর্টমুন্ডের জন্য এমন শুরু ক্লাবটির ইতিহাসে মাত্র চতুর্থবারের মতো ঘটলো যে তারা বুন্দেসলিগার প্রথম চার ম্যাচেই সর্বোচ্চ ১২ পয়েন্ট তুলে নিতে পেরেছে। সর্বশেষ এমন কীর্তি এসেছিল ২০১৫-১৬ মৌসুমে। সেবার ডর্টমুন্ডের কোচ ছিলেন টমাস টুখেল, যিনি বর্তমানে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের দায়িত্বে আছেন।
স্টুটগার্টের বিপক্ষে জয়টি শুধু তিন পয়েন্টের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, ডর্টমুন্ডের বর্তমান আত্মবিশ্বাসেরও বড় প্রমাণ। মৌসুমের শুরুতে চার ম্যাচে চার জয় মানে দলটি এখন শিরোপার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছে। অবশ্য মৌসুমের এখনও অনেক পথ বাকি। কিন্তু শুরুতেই পাওয়া এই ছন্দ দলটির জন্য নিঃসন্দেহে বড় সম্পদ।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অন্তত আগামী তিন সপ্তাহ বুন্দেসলিগার শীর্ষে থাকবে ডর্টমুন্ড। সপ্তাহান্তের ম্যাচগুলো শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হবে। ফলে এই বিরতির সময় লিগে আর কোনো ম্যাচ না থাকায় ডর্টমুন্ডের শীর্ষস্থান ধরে রাখার সুযোগ থাকছে।
স্টুটগার্ট ম্যাচের পর ডর্টমুন্ড কোচ নিকো কোভাচ বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন গোলদাতা বেয়ারকে। জাতীয় দলে জায়গা না পেলেও ক্লাবের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করে বেয়ার নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। কোভাচের বক্তব্যের মূল কথা ছিল, দলের স্কোয়াডে এমন খেলোয়াড় থাকা বড় শক্তি, যারা একাধিক পজিশনে খেলতে পারে এবং প্রয়োজনের সময় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
বেয়ারকে নিয়ে কোভাচ আরও বলেছেন, তিনি মাঠের বিভিন্ন জায়গায় খেলতে পারেন এবং তাঁর কাছ থেকে কী পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে কোচের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। স্টুটগার্টের বিপক্ষে গোল করে বেয়ার সেই আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন।
ডর্টমুন্ডের সাম্প্রতিক ইতিহাস অবশ্য তাদের সমর্থকদের কিছুটা সতর্কও রাখবে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের মে মাসে বুন্দেসলিগার কোনো ম্যাচডে শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ছিল তারা। সেবার মৌসুমের শেষ ম্যাচের আগে শীর্ষে থেকেই শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল ডর্টমুন্ড। কিন্তু মেইঞ্জের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে হোঁচট খেয়ে শিরোপা হাতছাড়া করে তারা, সুযোগ কাজে লাগিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বায়ার্ন।
এবারের মৌসুমে অবশ্য গল্পটা একেবারেই নতুন করে শুরু করেছে ডর্টমুন্ড। চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে শীর্ষে থাকার পাশাপাশি দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাসও বাড়ছে। তবে সামনে লম্বা মৌসুম, তাই এই দুর্দান্ত শুরুকে শেষ পর্যন্ত শিরোপার সাফল্যে রূপ দিতে হলে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে বড় পরীক্ষা।
ডর্টমুন্ডের শেষ বুন্দেসলিগা শিরোপা এসেছিল ২০১১-১২ মৌসুমে ইয়ুর্গেন ক্লপের অধীনে। তার আগের মৌসুমেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। অর্থাৎ ক্লপের সময়ে টানা দুই মৌসুমে জার্মানির শীর্ষ লিগের শিরোপা জিতেছিল ডর্টমুন্ড। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা চলছে তাদের।
আন্তর্জাতিক বিরতির পর ৯ অক্টোবর ঘরের মাঠে ভের্ডার ব্রেমেনের বিপক্ষে খেলবে ডর্টমুন্ড। এরপর সামনে রয়েছে মৌসুমের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই, মিউনিখে বায়ার্নের বিপক্ষে ‘ডের ক্লাসিকার’। অক্টোবরের শেষ রাতে হতে যাওয়া সেই ম্যাচ ডর্টমুন্ডের দুর্দান্ত শুরুর আরেকটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
এ মুহূর্তে অবশ্য হিসাবটা খুব সরল, চার ম্যাচ, চার জয়, ১২ পয়েন্ট এবং বুন্দেসলিগার শীর্ষস্থান। ২০১৫-১৬ সালের পর প্রথমবার এবং ক্লাবের ইতিহাসে মাত্র চতুর্থবার এমন নিখুঁত শুরু পেল ডর্টমুন্ড। এখন দেখার বিষয়, এই উড়ন্ত সূচনা তারা কতটা দূর পর্যন্ত টেনে নিতে পারে।


