কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তাঁরা অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা শহরের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতিম বাবা-মায়ের সঙ্গে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। তার মা নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। শুক্রবার দুপুরে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিমের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ছেলের নিখোঁজের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে খোঁজ চেয়েছিলেন তার মা।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, ‘অপ্রতীমের অকালমৃত্যুর খবর সত্যিই হৃদয়বিদারক ও মেনে নেওয়ার মতো নয়। যে বয়সে তার হাসি, খেলাধুলা আর স্বপ্নে বেড়ে ওঠার কথা ছিল, সেই বয়সেই তাকে এভাবে চলে যেতে হলো।’
অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মুশফিক আরও লিখেছেন, ‘তার পরিবার, বিশেষ করে তার মায়ের জন্য এই শোক কতটা গভীর…তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আল্লাহ অপ্রতীমকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময় সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দিন।’
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন মুশফিক। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা আশা করি, এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং প্রকৃত সত্য সবার সামনে আসবে। যারা দায়ী, তাদের যথাযথভাবে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানি বা অন্যায়ের শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।’
ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি লিখেছেন, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অপ্রতীমের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।’
সাবেক ক্রিকেটার রুবেল হোসেনও অপ্রতিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘তেল-গ্যাস সংকট সময়ের সঙ্গে সমাধান হতে পারে। কিন্তু একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়া কিংবা লাশ হয়ে ঘরে ফেরা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
রুবেল আরও লিখেছেন, ‘অপরাধী যেই হোক, যে দলেরই হোক, কোনো পরিচয় বা প্রভাব তাকে রক্ষা করতে পারবে না। তার পরিচয় একটাই, সে একজন অপরাধী। দয়া করে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও আইনি ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও কার্যকর করুন।’
অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন আকবর আলী। তিনি প্রথমে লিখেছেন, ‘Justice delayed is justice denied।’
পরে আরেক পোস্টে আকবর লিখেছেন, ‘আজ এবং কাল আমরা অপ্রতিমকে নিয়ে সোস্যাল মিডিয়াতে অনেক কিছু বলবো, লিখবো। প্রশাসন এসে অনেক আশার বাণী শুনাবেন যে, আমরা অপরাধীকে ধরবো এবং শাস্তি দিব। এর মধ্যে এক সপ্তাহ পার হয়ে যাবে এবং অপ্রতিম আমাদের আলোচনা থেকে সরে যাবে, যেভাবে সরে গিয়েছে রামিছা, গনপতি স্যার এবং এরকম শত শত নাম।’
অপ্রতিমের মৃত্যুতে ২০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।
রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বেলা ১১টায় গন্ধমতি এলাকার বর্তমান বাসার কাছে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ওই এলাকাতেই তাকে দাফন করা হবে।


