আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্টে নাহিদ রানা থাকছেন না। তবে বাংলাদেশের এই পেসারকে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফিটনেস ফিরে পাওয়ার সম্ভাব্য সময় বিবেচনায় নিয়ে নাহিদকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি নির্বাচকেরা।
আগামী মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। শনিবার ঘোষিত সেই ম্যাচের দলে নাহিদকে রাখা হয়নি। দল নির্বাচনের সময় তাঁর নাম বিবেচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিসিবির প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, নাহিদকে আগামী মাসের ১০ তারিখ থেকে পাওয়া যেতে পারে। সে কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে তাঁর খেলার সুযোগ নেই।
হাবিবুল বলেন, ‘নাহিদ রানাকে নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করেছি। তাকে পাওয়া যাবে সামনের মাসের ১০ তারিখ থেকে। কাজেই এই টেস্ট থেকে সে এমনিতেই ছিটকে গেছে।’
নাহিদকে নিয়ে নির্বাচকদের মূল ভাবনা অবশ্য আরও সামনে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট রয়েছে বাংলাদেশের। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে নাহিদকে নিয়মিত পাওয়ার লক্ষ্যেই তাঁকে তাড়াহুড়ো করে ফেরাতে চায় না দল।
প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘সামনের টেস্ট ম্যাচগুলোকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট, এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ, এছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট। এই টেস্ট ম্যাচগুলো আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য নাহিদ রানাকে আমরা সম্ভাব্য সেরা সুযোগ দিতে চাই, যেন সে সবগুলো ম্যাচ খেলতে পারে।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতেই একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। নাহিদ সেখানে ফিরবেন, নাকি দেশে ফিরে জাতীয় লিগে খেলে টেস্টের প্রস্তুতি নেবেন-এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি।
তবে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অক্টোবরের শেষ দিকে শুরু হতে যাওয়া দুটি টেস্টে নাহিদকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী নির্বাচকেরা।
হাবিবুল বলেন, ‘এই টেস্টে (আফগানিস্তানের বিপক্ষে) তাকে আমরা পাচ্ছি না। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্টে তাকে আমরা চাচ্ছি। আশা করি, তখন সে সুস্থ থাকবে। সেক্ষেত্রে তাকে নিয়ে সম্ভাব্য সেরা পথটা কী হতে পারে, সেটিই নিয়ে আমরা আলাপ করছি।’
নাহিদের প্রস্তুতির জন্য দুটি সম্ভাব্য পথও ভাবছে নির্বাচকেরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তাঁকে খেলিয়ে ম্যাচ অনুশীলনে ফেরানো হতে পারে। অন্যদিকে, জাতীয় লিগের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেও তিনি টেস্টের প্রস্তুতি নিতে পারেন।
প্রধান নির্বাচকের ভাষায়, ‘যেহেতু ওয়ানডে সিরিজে তাকে পাওয়া যাবে, সেখানে দুটি ওয়ানডে খেলে সে প্রস্তুতি নেবে কি না, অথবা আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মৌসুম যেহেতু শুরু হচ্ছে, সেখানে খেলে টেস্ট ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেবে কি না—যেটা ভালো হবে, সেটাই আমরা করব নাহিদ রানার জন্য।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের দলে গত মাসের অস্ট্রেলিয়া সফরের দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে পরিবর্তন এসেছে দুটি। বাদ পড়েছেন অমিত হাসান। তাঁর জায়গায় ফিরেছেন জাকের আলি অনিক। আর বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাসকিন আহমেদকে; তাঁর জায়গায় দলে ফিরেছেন তাওহিদ হৃদয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা হৃদয়ের টেস্ট দলে ফেরাটা অবশ্য প্রত্যাশিতই ছিল। সম্প্রতি একটি ম্যাচে তিনি ৩৫০ রানের ইনিংস খেলেছেন। একই ম্যাচে জাকেরও করেছেন ৯৪ রান।
অমিতের জায়গায় জাকেরকে ফেরানো নিয়েই বেশি আলোচনা হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের সঙ্গে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি অমিত। তাঁকে না খেলিয়েই কেন বাদ দেওয়া হলো, আর জাকেরকে কেন ফেরানো হলো—তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক।
হাবিবুল বলেন, ‘অমিত হাসানকে আমরা কিপার-ব্যাটার হিসেবে নিয়েছিলাম, যাকে আমরা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করছি। সে খেলছিল, দলের সঙ্গে ছিল। তবে এই মুহূর্তে আমরা জাকের আলি অনিককে ফিরিয়ে এনেছি। সে আমাদের আগের পছন্দ ছিল। পরে ফর্মের কারণে বাদ পড়ে গিয়েছিল।’
জাকেরের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নির্বাচকেরা সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি। ‘এ’ দলের হয়ে খেলা এবং অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট দলের সঙ্গে থাকার সময় জাকেরের ফর্ম ফিরে পাওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন তাঁরা।
প্রধান নির্বাচকের ব্যাখ্যা, ‘আমাদের সামনের যে টেস্ট ম্যাচগুলো আছে, বিশেষ করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোতে একটু অভিজ্ঞতার প্রয়োজন এবং পরীক্ষিত ক্রিকেটারদের একটু বেশি প্রয়োজন।’
জুনে সিলেটে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচের দুই ইনিংসেই ফিফটি করেছিলেন জাকের। দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের হয়ে সাম্প্রতিক ম্যাচেও ব্যাট হাতে ভালো করেছেন তিনি।
অমিতকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় রেখেই আপাতত জাকেরের ওপর আস্থা রাখছে নির্বাচক কমিটি। হাবিবুল বলেন, ‘অমিত মাত্র শুরু করেছে। অবশ্যই ভবিষ্যতে তার সুযোগ আসবে। তবে এই টেস্ট ম্যাচগুলোতে আমরা আমাদের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, যারা আগে খেলেছে, পারফর্ম করেছে, তাদের নিয়েই চিন্তাভাবনা করছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, জাকের সেই ফর্ম ফিরে পেয়েছে। দ্বিতীয় কিপার-ব্যাটার হিসেবে আমরা তাকেই বেছে নিয়েছি।’


