১২৫ রানের লক্ষ্য। টি-টোয়েন্টিতে যা মোটেও বড় নয়। তবে এমন ছোট লক্ষ্যও কখনো কখনো চাপ তৈরি করতে পারে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই চাপের সামান্য ছাপও দেখা গেল না শ্রীলঙ্কার। জস বাটলার ও হ্যারি ব্রুকের ব্যাটিং-ঝড়ে মাত্র ৯.৪ ওভারেই লক্ষ্য পেরিয়ে গেল ইংল্যান্ড। শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৮ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নিল স্বাগতিকেরা।
শ্রীলঙ্কার ইনিংস থেমেছিল মাত্র ১২৪ রানে। জবাব দিতে নেমে পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচ নিজেদের মুঠোয় নিয়ে নেয় ইংল্যান্ড। বাটলার ও ব্রুক মাত্র ৩৯ বলে যোগ করেন ৮৫ রান। প্রথম ছয় ওভার শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর ৮২/১। তখনই শ্রীলঙ্কার পুরো স্কোরের অর্ধেকের বেশি তুলে ফেলেছে তারা। অষ্টম ওভার শেষে ১০০ ছুঁয়ে যায় ইংল্যান্ড, এরপর জয় পেতে আর সময় লাগেনি।
বাটলার ছিলেন যথারীতি বিধ্বংসী। ৩২ বলে অপরাজিত ৬২ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। শেষটা করেছেনও নিজের মতো করে। স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে। এর আগে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৫ হাজার টি-টোয়েন্টি রান পূর্ণ করা বাটলার সিরিজের শেষ ম্যাচেও দেখালেন কেন তিনি বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার। ব্রুকও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। পরে অবশ্য সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট হয়ে ফেরেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসে শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। পাথুম নিশাঙ্কা ২৪ বলে ৩৬ রান করে দ্রুত রান তুলছিলেন। কিন্তু তাঁর বিদায়ের পর আর সেভাবে দাঁড়াতেই পারেনি শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং। কামিন্দু মেন্ডিস ২৮ বলে ৩৫ রান করে কিছুটা লড়াই করেন। তবে তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার মতো আর কেউ ছিলেন না। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৮.৫ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা।
ইংল্যান্ডের বোলাররা অবশ্য কৃতিত্ব দাবি করতেই পারেন। সনি বেকার, জোফরা আর্চার ও উইল জ্যাকস নেন দু’টি করে উইকেট। লিয়াম ডসন ও জেমি ওভারটন পান একটি করে। সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন বেকার। ৩.৫ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার গতির স্কিডি বলের সঙ্গে ধীরগতির ডেলিভারির দারুণ মিশেলে শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের স্বস্তি দেননি এই তরুণ পেসার।
নিশাঙ্কা ও মেন্ডিস ছাড়া শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে বড় কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি। সাতটি ছক্কা এলেও সেগুলো বড় জুটিতে রূপ নেয়নি। সাতটি ওভারে ছক্কা এলেও মাত্র তিন ওভারে ১০ বা তার বেশি রান তুলতে পেরেছে শ্রীলঙ্কা। ফলে শুরুতে নিশাঙ্কার দেওয়া গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
বোলিংয়েও স্বস্তি ছিল না শ্রীলঙ্কার। দুশমন্ত চামিরার বদলে একাদশে আসা নুয়ান থুশারা দুই ওভারে দেন ২৯ রান। ইশান মালিঙ্গা ১.৪ ওভারে খরচ করেন ৩৪ রান, আর দিলশান মাদুশঙ্কা দুই ওভারে দেন ২৩। এমন ছোট লক্ষ্য নিয়ে এমন খরুচে বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগই তৈরি হয়নি।
এই ম্যাচের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার আরেকটি বড় দুশ্চিন্তার নাম চারিথ আসালঙ্কা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১৬, ৩১ ও ১০ রান। গত দুই বছরে জাতীয় দলের হয়ে ২২ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৩১২ রান। এলপিএলে ভালো পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলে ফিরেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জন্য সিরিজটি ছিল একাধিক ইতিবাচক বার্তার। বাটলার-ব্রুকের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়ে বেকারের উত্থানও নজর কেড়েছে। তিন ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে সিরিজ শেষ করেছেন তিনি, ইকোনমি রেট মাত্র ৩.৭১। ইংল্যান্ডের পেস বোলিংয়ের শক্তিশালী ভাণ্ডারে তাঁর এই পারফরম্যান্স নতুন একটি কার্যকর বিকল্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত ১২৪ রানের পুঁজি শ্রীলঙ্কার জন্য যথেষ্ট তো ছিলই না, বরং ইংল্যান্ডের কাছে সেটি হয়ে দাঁড়ায় নিছক আনুষ্ঠানিকতা। ৯.৪ ওভারে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করল ইংল্যান্ড। এই জয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে তাদের টানা জয় দাঁড়াল ১৫ ম্যাচে। পাশাপাশি ভারতের কাছ থেকে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থানও ফিরে পেল তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:
শ্রীলঙ্কা ১২৪ (পাথুম নিশাঙ্কা ৩৬, কামিন্দু মেন্ডিস ৩৫; সনি বেকার ২/১৭, জোফ্রা আর্চার ২/২৩, উইল জ্যাকস ২/৩১) ১৮.৫ ওভারে।
ইংল্যান্ড ১২৬/২ (জস বাটলার ৬২*; ৯.৪ ওভারে)।
ফল: ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী। সিরিজ: ইংল্যান্ড ৩-০।


