এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। তবে এখনও পদকের আশা শেষ হয়ে যায়নি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জিততে পারলে ব্রোঞ্জ পদক পাবে বাংলাদেশ।
জাপানের আইচি প্রিফেকচারে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন ভারতের দুই ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা। উদ্বোধনী জুটিতে তাঁরা যোগ করেন ৭২ রান।
নাহিদা আক্তার ভাঙেন ভারতের উদ্বোধনী জুটি। তবে ততক্ষণে পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে ৭২ রান তুলে ফেলে ভারত। এরপরও রান তোলার গতি কমেনি। ১৯ বলে ৩৭ রান করে স্মৃতি ফিরলেও শেফালি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। গুনালান কমলিনিকে ১০ বলে ৩ রানে ফেরান সানজিদা আক্তার মেঘলা।
এরপর হারমানপ্রীত কৌরকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ বাড়ান শেফালি। হারমানপ্রীত অল্পের জন্য ফিফটি থেকে বঞ্চিত হন। ৩৩ বলে ৪০ রানের ইনিংসে তিনি মারেন ছয়টি চার। তাঁকে ফেরান রাবেয়া খান। ইনিংসের শেষদিকে রিচা ঘোষকে সাজঘরে পাঠান মারুফা আক্তার।
তবে শেফালিকে থামানো যায়নি। ৪৯ বলে তিনটি চার ও নয়টি ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে এটিই প্রথম সেঞ্চুরি। তাঁর শতকের সঙ্গে শেষ হয় ভারতের ইনিংস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে ভারত।
১৯৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ১০ রানেই হারায় দুই উইকেট। জুয়াইরিয়া ফেরদৌস গোল্ডেন ডাকের শিকার হওয়ার পর ৪ রান করে বিদায় নেন সোবহানা মোস্তারি।
এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন দিলারা আক্তার। কিন্তু তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২৩ বলে ২৭ রান করে তাঁর বিদায়ের পর বাংলাদেশের জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। দলের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। সুলতানা খাতুন করেন ১২ রান।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারও খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। ভারতের বোলিংয়ের সামনে একপেশে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
এ নিয়ে ১১ দিনের ব্যবধানে দুই সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারল বাংলাদেশ। গত ১০ সেপ্টেম্বর এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও বাংলাদেশের মেয়েদের হারিয়েছিল ভারত।
তবে এশিয়ান গেমসে এখনও পদকের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সোবহানা-মারুফাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে পাকিস্তান।


