এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অভিযান শুরুর আগেই অস্বস্তিকর এক ঘটনায় আলোচনায় এসেছে ব্যাডমিন্টন দল। অনুশীলনে নামার সময় খেলোয়াড়দের জার্সিতে দেশের নামের বদলে ছাপা হয়েছে তাদের ব্যক্তিগত নাম। শুধু তাই নয়, কয়েকজনের নামের বানানেও ছিল ভুল, যা পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গেও মিলছে না। ফলে জার্সির এই ভুল নিয়ে তৈরি হয়েছে বিব্রতকর পরিস্থিতি, এমনকি নির্ধারিত সময়ে নতুন জার্সি না পেলে প্রতিযোগিতায় নামা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে বাংলাদেশি শাটলারদের। কোর্টে অনুশীলনে নামার প্রস্তুতির সময় জার্সির পেছনে দেশের নামের জায়গায় খেলোয়াড়দের নাম দেখতে পান তারা। এরপর নামের বানানেও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, কিছু নামের বানান খেলোয়াড়দের পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অভিযোগ রয়েছে, দেশে থাকতেই জার্সির এই ত্রুটি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছিল। তারপরও ভুল সংশোধন করে নতুন জার্সি প্রস্তুত না হওয়ায় বিদেশের মাটিতে এসে সমস্যাটি প্রকাশ্যে আসে। বহুজাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নিতে যাওয়া একটি জাতীয় দলের পোশাকে এমন ভুল স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) পক্ষ থেকে জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইউনেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আয়োজকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্যসহ নতুন জার্সি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সময়মতো জার্সি জমা না দেওয়া গেলে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
ব্যাডমিন্টন দলের প্রধান কাজী মহিউদ্দিন বুলবুল অবশ্য বিষয়টিকে বড় করে দেখতে নারাজ। তাঁর দাবি, সমস্যাটির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং খেলোয়াড়েরা ইতোমধ্যে অনুশীলন করেছেন। জার্সি তৈরির ক্ষেত্রে বিওএর অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে বিওএর বক্তব্য, সব ফেডারেশনকে সঠিকভাবে জার্সি তৈরি করে অনুমোদন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন যথাসময়ে সেই প্রক্রিয়া শেষ না করায় শেষ মুহূর্তে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে বিওএ।
জার্সি নিয়ে এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন একটি ভুল হিসেবে দেখলেও বাংলাদেশের বড় ক্রীড়া আসরে প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে পুরোনো প্রশ্নগুলো আবার সামনে এসেছে। অতীতেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সময়মতো ভেন্যুতে পৌঁছানো, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং সাংগঠনিক সমন্বয় নিয়ে নানা সমস্যার খবর এসেছে। এবার এশিয়ান গেমস শুরুর আগেই সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করল ব্যাডমিন্টন দলের জার্সি-বিভ্রাট।
এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের বহরে রয়েছেন ২৬০ জন। এর মধ্যে ১৮৭ জন ক্রীড়াবিদ। এর মধ্যে পুরুষ ৯০ এবং নারী ৯৭ জন। বাকি ৭৩ জন কর্মকর্তা ও অফিসিয়াল। ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেওয়া এত বড় বহরে কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়েও গেমসের আগে আলোচনা হয়েছে।
বিওএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং বিভিন্ন সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সির মতো মৌলিক একটি বিষয়েও যদি শেষ মুহূর্তে ভুল ধরা পড়ে, তাহলে সেই ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
সবচেয়ে বড় কথা, জার্সির ভুল যেন বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস অভিযানের মূল আলোচনায় পরিণত না হয়। মাঠে খেলোয়াড়দের মনোযোগ থাকার কথা পারফরম্যান্সে; কিন্তু তার আগেই যদি পোশাক, যাতায়াত কিংবা সাংগঠনিক ত্রুটি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়, সেটি দলের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টন দলের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই তাই ব্যবস্থাপনার এই ভুল সংশোধন করাই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান দায়িত্ব। প্রথম দিনের জার্সি-বিভ্রাট যেন শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বাধা তৈরি না করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


