৪৮ দলের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর মহাযজ্ঞ শেষে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ এখন রূপ নিয়েছে সেরা ৮ দলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে। মাত্র একদিনের বিরতি দিয়েই আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে মাঠে গড়াচ্ছে ফিফার এই মেগা ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে শেষ আটের এই মহারণে নামার আগে মাঠের কৌশলের চেয়েও বড় এক দুর্ভাবনা ভর করেছে দলগুলোর শিবিরে। কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে দল জিতলেও, হলুদ কার্ডের খড়্গ কেড়ে নিতে পারে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন!
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের ভিন্ন দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলেই সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। নকআউট পর্বের আগের ম্যাচগুলোতে (সেরা ৩২ ও সেরা ১৬) অলরেডি একটি করে হলুদ কার্ডের নিষেধাজ্ঞা মাথায় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে নামছেন বিভিন্ন দলের অন্তত ১৮ জন ফুটবলার। আজ যদি তারা আরেকটি হলুদ কার্ড দেখেন, তবে তাদের দল সেমিফাইনালে উঠলেও তারা কেবল দর্শক হয়েই মাঠের বাইরে বসে থাকবেন।
কার্ডের ঝুঁকিতে কারা?
নিষেধাজ্ঞার এই ঝুলন্ত তরবারির নিচে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছে ইংল্যান্ড ও মরক্কো। দুই দলেরই সর্বোচ্চ ৪ জন করে ফুটবলার নকআউট পর্বে একটি করে হলুদ কার্ড দেখে আছেন। এছাড়া সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের ৩ জন করে এবং আর্জেন্টিনা, স্পেন, বেলজিয়াম ও নরওয়ের ১ জন করে ফুটবলার রয়েছেন চরম ঝুঁকিতে।
ঝুঁকিতে থাকা ১৮ ফুটবলারের তালিকা:
- ইংল্যান্ড: জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস, মার্ক গেয়ি।
- মরক্কো: ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল, বিলাল এল খানুস।
- ফ্রান্স: মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে, ব্রাডলি বারকোলা।
- সুইজারল্যান্ড: গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া, মিরো মুহাইম।
- আর্জেন্টিনা: গঞ্জালো মন্টিয়েল।
- স্পেন: ফেররান তোরেস।
- বেলজিয়াম: ব্র্যান্ডন মেচেলে।
- নরওয়ে: অ্যান্তোনিও নুসা।
ফিফার নতুন কার্ড নীতি ও নিয়মের মারপ্যাঁচ
৩২ দলের পরিবর্তে এবারই প্রথম ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ হওয়ায় নকআউট পর্বে একটি বাড়তি রাউন্ড যোগ হয়েছে। সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি দলকে খেলতে হচ্ছে ৬টি ম্যাচ। বাড়তি ম্যাচের কারণে তারকা খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবার কার্ড নীতিতে পরিবর্তন এনেছে ফিফা।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের সব হলুদ কার্ড নকআউট পর্ব শুরুর আগেই বাতিল (রিসেট) হয়ে গেছে। নকআউটের শুরু থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কার্ডের এই হিসাব সচল থাকবে। তবে স্বস্তির খবর হলো, কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর আবারও হলুদ কার্ডের খাতা শূন্য বা রিসেট হয়ে যাবে। ফলে কোনো ফুটবলার কেবল হলুদ কার্ডের সংখ্যার কারণে স্বপ্নের ‘ফাইনাল’ ম্যাচ মিস করবেন না। তবে কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনালে যদি কেউ সরাসরি ‘লাল কার্ড’ দেখেন, তবে তিনি যথারীতি নিষিদ্ধ থাকবেন। সহিংস আচরণের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়তে পারে।
মেগা আসরের শেষ মুহূর্তের সূচি
আজ ৯ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ১২ জুলাই পর্যন্ত চলবে কোয়ার্টার ফাইনালের রোমাঞ্চকর লড়াই। এরপর ১৪ ও ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল। আগামী ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পর ১৯ জুলাই বিশ্ববাসী পাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
এখন দেখার বিষয়, সেমিফাইনালের টিকিট কাটার এই মরণপণ লড়াইয়ে ১৮ তারকা নিজেদের স্নায়ু কতটা নিয়ন্ত্রণে রেখে কার্ডের ফাঁদ এড়িয়ে দলকে ফাইনালে তোলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পারেন।


