বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের তোলা রেফারিং বিতর্কের সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কললিনা। তার দাবি, বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা ম্যাচ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কোনোভাবেই বাহ্যিক প্রভাবের শিকার হননি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রেফারিদের সততা নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ খেলাটির জন্য ক্ষতিকর।
মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে মিশর। তবে ২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি কললিনা বলেন, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ হলেও প্রমাণহীন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তার ভাষায়, ফিফার ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ নেই এবং তাদের সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি, এমনকি ফিফা সভাপতির প্রভাবেও পরিচালিত হয় না।
মিশরের কোচ হোসাম হাসান এবং উইঙ্গার মোস্তাফা জিকো ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়ে দাবি করে, ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সরাসরি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষ করে, দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তাফা জিকোর গোল বাতিল এবং আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহামেদ সালাহকে করা ফাউলের ঘটনায় পেনাল্টি না দেওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে মিশর। তবে কললিনা ব্যাখ্যা করেন, ভিএআর সঠিকভাবেই জিকোর গোল বাতিলের সুপারিশ করেছিল, কারণ আক্রমণের শুরুতে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারের ওপর ফাউল হয়েছিল। এছাড়া সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেসের সংঘর্ষকে রেফারি ও ভিএআর উভয়েই স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
বিশ্বকাপজুড়ে ভিএআর ও রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে সমালোচনা থাকলেও কললিনার দাবি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভিএআর প্রটোকল যথাযথভাবেই অনুসরণ করা হয়েছে। তার মতে, কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। সব মিলে রেফারিংয়ের মান এবং ভিএআর প্রয়োগে ফিফা সন্তুষ্ট।


