কাউকে ভয় পেতে নয়, সামর্থ্য দেখাতেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ

প্রতিপক্ষের র‍্যাঙ্কিং বা শক্তি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। বরং নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রেখে যত বেশি সম্ভব পয়েন্ট অর্জন করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই মিডফিল্ডার।

শুক্রবার জাকার্তায় স্বাগতিক মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের উদ্বোধনী ফিফা আসিয়ান কাপ অভিযান শুরু হচ্ছে। তার আগে দলের প্রস্তুতি, প্রতিপক্ষ এবং নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন হামজা।

সোমবার বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। এরপর টানা তিন দিন দলের সঙ্গে অনুশীলনও করেছেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন হামজা।

বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ ‘এ’তে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। প্রতিটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে মাঠে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করাই হবে বাংলাদেশের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

তবে এসব নিয়ে বিচলিত নন হামজা।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমাদের জন্য র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে খেলা অবশ্যই বড় একটি সুযোগ। আমাদের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্য হলো যত বেশি সম্ভব পয়েন্ট অর্জন করা। কারণ আমরা কাউকে ভয় পেতে এখানে আসিনি। আমরা জানি, আমরা কী করতে পারি।”

প্রতিপক্ষের শক্তি নয়, নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস

বাংলাদেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে হামজা চৌধুরীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অভিজ্ঞতা দলের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাসের উৎস হতে পারে।

তবে হামজার বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু ব্যক্তিগত সামর্থ্য দিয়ে নয়, পুরো দলকে একসঙ্গে পারফর্ম করতে হবে। তার কাছে এই টুর্নামেন্ট যেমন প্রতিযোগিতার, তেমনি শেখারও সুযোগ। তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য শেখার একটি প্রক্রিয়া। আমরা যতটা সম্ভব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই এবং আশা করি, আমাদের দেশকে গর্বিত করতে পারব।”

অর্থাৎ, বড় দলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ভয় বা অতিরিক্ত চাপকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকেই মনোযোগ বাংলাদেশের।

প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষা

ফিফা আসিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই বাংলাদেশের সামনে মালয়েশিয়া। জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নিজেদের প্রথম ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে হবে লাল-সবুজের দলকে।

গ্রুপ পর্বে প্রতিটি পয়েন্টের গুরুত্ব রয়েছে। ফলে প্রথম ম্যাচে ভালো শুরু করতে পারলে পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাসও বাড়বে। হামজা অবশ্য প্রতিপক্ষের শক্তির দিকে না তাকিয়ে নিজেদের খেলায় মনোযোগ রাখার কথা বলেছেন। তার মতে, র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগকে ভয় হিসেবে দেখার বদলে নিজেদের পরীক্ষা করার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।

ইন্দোনেশিয়াকে নিয়ে হামজার প্রশংসা

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। স্বাগতিকদের নিয়ে বেশ সতর্ক হামজা। তিনি মনে করেন, ইন্দোনেশিয়ার দলে যথেষ্ট মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে এবং দলটির কোচও ভালো কাজ করছেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে হামজা বলেন, দলটি ভালো র‍্যাঙ্কিংয়ে রয়েছে এবং তাদের স্কোয়াডে বেশ ভালো মানের খেলোয়াড় আছে। তার চোখে ইন্দোনেশিয়ার প্রধান কোচও খুব ভালো।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রসঙ্গ টেনে হামজা আরও বলেন, পরবর্তী বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বকাপে যাওয়ার লড়াইয়ে না থাকলে তিনি অবাক হবেন।

ফুটবল নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার আবেগও নজরে হামজার

ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল সংস্কৃতি নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন হামজা। তার মতে, দেশটির মানুষের কাছে ফুটবলের গুরুত্ব অনেক বেশি এবং ফুটবলকে ঘিরে সেখানে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।

হামজার ভাষায়, “একটি দেশ হিসেবে তারা ফুটবলের ওপর অনেক গুরুত্ব দেয় এবং আমার মনে হয় তাদের খুব ভালো একটি দল রয়েছে।” বাংলাদেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ। কারণ ইন্দোনেশিয়ার মতো ফুটবলপ্রেমী দেশে গিয়ে খেলা মানেই শুধু প্রতিপক্ষের ১১ জন খেলোয়াড়ের বিপক্ষে লড়াই নয়; মাঠের পরিবেশ ও সমর্থকদের চাপও সামলাতে হবে বাংলাদেশকে।

তিন দিনের অনুশীলনে দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

সোমবার দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর গত তিন দিন অনুশীলন করেছেন হামজা। জাতীয় দলের সঙ্গে তার সময় খুব বেশি না হলেও দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় গড়ে তোলাই এখন তার অন্যতম লক্ষ্য।

শুক্রবারের ম্যাচ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রত্যাশা। হামজাকে ঘিরে বাংলাদেশের সমর্থকদের আগ্রহও কম নয়। তার অভিজ্ঞতা এবং মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা বাংলাদেশের খেলায় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তবে হামজা নিজেও জানেন, একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে বড় কোনো টুর্নামেন্টে সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। দল হিসেবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই হবে মূল বিষয়।

‘দেশকে গর্বিত করতে চাই’

বাংলাদেশের জন্য ফিফা আসিয়ান কাপ শুধু আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নয়। তুলনামূলক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনেরও বড় সুযোগ এটি।

হামজার বক্তব্যেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে। তিনি জানেন, প্রতিপক্ষরা র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে। কিন্তু মাঠে নামার আগে সেই পার্থক্যকে ভয় হিসেবে দেখছেন না তিনি।

বরং যত বেশি সম্ভব পয়েন্ট সংগ্রহ, অভিজ্ঞতা অর্জন এবং শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনার লক্ষ্যেই মাঠে নামতে চান তিনি। শুক্রবার মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সেই যাত্রা। এরপর গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো প্রতিপক্ষ।

বাংলাদেশের জন্য পথটা সহজ নয়। কিন্তু হামজার বার্তা পরিষ্কার, র‍্যাঙ্কিং দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না, মাঠে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করাই আসল। কাউকে ভয় নয়, আত্মবিশ্বাস নিয়েই লড়াই করতে চায় লাল-সবুজের দল।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles