একসময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা দলগুলোর মিলনমেলা ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি। আইপিএল, বিগ ব্যাশ, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগসহ বিভিন্ন ঘরোয়া প্রতিযোগিতার সফল দলগুলোকে নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট অল্প সময়েই ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে আলাদা জনপ্রিয়তা তৈরি করেছিল।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ব্যাপক বিস্তারের প্রেক্ষাপটে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি আবারও চালু করার আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। টুর্নামেন্টটি পুনরায় আয়োজনের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
এক দশকের বেশি সময় ধরে বন্ধ
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টির সর্বশেষ আসর বসেছিল ২০১৪ সালে। এরপর থেকে আর মাঠে দেখা যায়নি এই প্রতিযোগিতা। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টটি ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোট ছয়টি আসর পার করে।
এই প্রতিযোগিতার মূল ধারণা ছিল বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে সফল দলগুলোকে একই টুর্নামেন্টে মুখোমুখি করা। ফলে একটি দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের সঙ্গে অন্য দেশের সেরা দলের সরাসরি লড়াই দেখার সুযোগ পেত দর্শকরা।
টুর্নামেন্টটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও সময়ের সঙ্গে এর প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সেই আলোচনা নতুন গতি পায়।
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন লিগের সফল দলগুলোকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আয়োজনের ধারণাটি আবারও সামনে আসে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি ফিরলে বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের শক্তি একই মঞ্চে যাচাই করার সুযোগ তৈরি হতো।
এ ছাড়া দর্শকদের কাছেও প্রতিযোগিতাটি আকর্ষণীয় হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কারণ একই টুর্নামেন্টে ভিন্ন ভিন্ন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সেরা দলগুলোকে দেখা যেত।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হয়ে দাঁড়ায় ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক টি-টোয়েন্টি লিগ অনুষ্ঠিত হয়। ফলে নতুন একটি বড় প্রতিযোগিতার জন্য আলাদা সময় বের করা সহজ নয়।
একই সময়ে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সূচি পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার শংকাও রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নেওয়া দলগুলোর খেলোয়াড়দের পাওয়া, সংশ্লিষ্ট লিগগুলোর সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা, সব মিলিয়ে তৈরি হয় নানা জটিলতা।
শেষ পর্যন্ত এসব বাস্তব সমস্যার কারণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি ফেরানোর পরিকল্পনা আর এগিয়ে নেওয়া হয়নি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টির অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল এর অংশগ্রহণকারী দলগুলো। ভারতের আইপিএল, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার সফল দলগুলো এই আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেত।
এর ফলে ভিন্ন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের মধ্যে প্রতিযোগিতার একটি যোগসূত্র তৈরি হয়েছিল। কোনো একটি লিগে আধিপত্য বিস্তার করা দল অন্য দেশের শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজির বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করতে পারত।
ক্রিকেটারদের জন্যও এটি ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ।
ভারতের দলগুলোর আধিপত্য
২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ছয়টি আসরের মধ্যে ভারতের দলগুলো চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এতে টুর্নামেন্টে আইপিএলভিত্তিক দলগুলোর শক্ত অবস্থানও ফুটে উঠেছিল।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেই সময়ের প্রতিযোগিতাগুলোতে ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সফল টি-টোয়েন্টি দল অংশ নিত। ফলে টুর্নামেন্টটি ছিল বহুজাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অন্যতম বড় মঞ্চ।


