সঞ্জু স্যামসনের ঝড়ো ব্যাটিং, শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মার বিধ্বংসী ব্যাটিং-কিছুই শেষ পর্যন্ত ভারতকে রক্ষা করতে পারলো না। ২৫৩ রান করেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারতে হয়েছে। শাই হোপের ৪৫ বলে সেঞ্চুরি এবং শেরফেন রাদারফোর্ডের ৩৭ বলে ৮৪ রানের বিস্ফোরক ইনিংস ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রাচিতে রোমাঞ্চকর এই জয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করার রেকর্ডও গড়েছে ক্যারিবীয়রা।
প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান করেছিল। জবাবে হোপ ও রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে লক্ষ্যটা সহজ করে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক হোপের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি ও রাদারফোর্ডের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ভারতের বোলাররা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ডের ১৩ বলে ৩৪ রানের ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় আরও সহজ করে দেয়।
ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়ার পাশাপাশি এই ম্যাচে আরও একটি নজির গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাউন্ডারি থেকেই তারা করেছে ২০৪ রান, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যা দলটির সর্বোচ্চ রান।
টস জয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। শিশিরের প্রভাব বিবেচনায় শুরুতে স্পিন ও খন্ডকালীন পেসারদের ব্যবহার করে তারা। তবে সেই কৌশল কাজে আসেনি। শুরুতেই জীবন পাওয়া সাঞ্জু স্যামসন সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ক্যারিবীয় বোলারদের তুলোধুনে করেন। ৪১ বলে ৮২ রান করেন তিনি।

স্যামসনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভারত বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায়। এরপর ইনিংসের শেষ দিকে ঝড় তোলেন শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মা। দুজনেই চল্লিশের ঘরে রান করেন এবং তাদের স্ট্রাইক রেট ছিল দুইশ’র বেশি। শেষ ওভারে টানা তিন ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতের সংগ্রহকে আরও বড় করেন তিলক। ওই ওভার থেকে আসে ২৩ রান। শেষ পর্যন্ত ২৫৩ রানের বিশাল পুঁজি পায় ভারত।
২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। পাওয়ার প্লের প্রথম ভাগেই তারা তিন উইকেট হারায়। একপর্যায়ে স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৫৮ রান। মনে হচ্ছিল ভারতের বিশাল রানের চাপে তারা ভেঙ্গে পড়েছে। কিন্তু এপরই হোপের সঙ্গে যোগ দেন রাদারফোর্ড। আর তখন চিত্রনাট্য বদলাতে শুরু করে। ৫২ বলে ১২০ রানের জুটি গড়ে তারা ভারতের বোলিং লাইন এলেমেলো করে দেন। রাদারফোর্ড ৩৭ বলে ৮৪ রান করেন। আর শাই হোপ ৪৫ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন।


