বেগম খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন ভারত

আইএইচএফ নেশনস ট্রফি-২০২৬

আজ শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত ফেভারিট হিসেবে শুরু করে ফিভারিটের মতই খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যদিও বাংলাদেশ মিষ্টির দেওয়া গোলে প্রথম সূচনা পায় কিন্তু তারপর ভারতের পক্ষে শালিনী প্রথম গোল করে সমতায় ফেরায় ভারতকে। একটা সময় পর্যন্ত ৬-৬ গোলের সমতাও ছিল কিন্তু তারপর ভারত এগিয়ে যাওয়া শুরু করলো সেখান থেকে আর সমতায় ফিরতে পারেনি ইসমেতারা নিশির দল, ফলে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফি-২০২৬ হ্যান্ডবলের এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত।

রানার্স আপ বাংলাদেশ দল

টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে বাংলাদেশ এই ভারতের কাছেই ৪৭-১৩ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল সেখান থেকে ফাইনালে ১২ গোলের ব্যবধানে হেরেও বাংলাদেশকে খুশিই মনে হয়েছে। কারণ ভারতের হ্যান্ডবলের তুলনায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলা হয়না বলেলেই চলে। তাছাড়া ভারতের অধিংকাংশ খেলোয়াড় একাডেমীতে থেকে বেড়ে উঠা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের খেলার সুযোগ ও অনেক বেশী। তাই ফাইনালে শক্তিশালী ভারতের কাছে ২৮-১৬ গোলে হেরেও স্বাগতিকদের বেশ খোশ মেজাজেই দেখা গেছে।

ম্যাচের স্কোরলাইন দেখে হয়তো মনে হবে ভারত বাংলাদেশকে দাঁড়াতেই দেয়নি কিন্তু না, ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটে দুই দলই সমানতালে লড়েছে। তখন স্কোর ছিল ৬-৬। এরপর ভারত এগিয়ে গেলেও লড়াই থেকে ছিটকে যায়নি বাংলাদেশ। ১৪-৯ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ভারত। তবে বোঝা যাচ্ছিল বিরতির পর ভারত আরো এগিয়ে যাবে কারন ভারতের খেলোয়াড়দের ফিটনেস, স্টামিনা ও ফিজিক্যাল এডভান্সে অনেক এগিয়ে ছিল যার প্রমাণ তারা দিয়েছে মাঠের খেলাতেও।

বিরতির পর অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নিয়েছে তা নয় তবে আক্রমনের ধার ছিল তাদের বেশী এবং অধিকাংশ আক্রমন থেকে গোল পেয়েছে বিশেষ করে ভাবনা, সুজাতা, নিকি, মেনিকা, মিতালি এবং প্রিয়াংকা ঠাকুর তাদের উচ্চতা বেশ এবং সেই উচ্চতার সুবিধা নিয়ে তারা ‍ওভার হেড থ্রো করে বেশ কিছু গোল পেয়েছে। তবে বাংলাদেশর খেলোয়াড়র উচ্চতা কম হলেও দুই উইংকে বিশেষ করে শ্যামলী ও আশিয়া নজর কাড়া হ্যান্ডবল খেলেছে। মাঝ কোর্ট দিয়ে বাংলাদেশ আক্রমনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি অধিনায়ক নিশি, তাসনিয়া ও সাকিবারা ভারতের রাইট হাফ ডিফেন্ডর, লেফট হাফ ডিফেন্ডার এবং রাইট ইনসাইড ডিফেন্ডারদের বডি শেল্ডিং ও ব্লকিং সফলভাবে ভাঙ্গতে পারেনি পক্ষান্তরে তারা আক্রমনে উঠে এই সুবিধা পেয়ে গোলে এগিয়ে গেছে। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন দলের পিভট প্লেয়ার ভাবনা।

বাংলাদেশের সাকিবার একটি আক্রমন

বাংলাদেশ ফাইনালে হারলেও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া। তাঁর কণ্ঠে হতাশার চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ই বেশি, ‘মেয়েদের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি আনন্দিত। তারা উন্নতি করছে। আমাদের এভাবেই এগোতে হবে। আমার মনে হয় দল সঠিক পথেই আছে।’

কোচ বলেন তাঁর মতে, ভালো হ্যান্ডবল খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি একজন পূর্ণাঙ্গ অ্যাথলেট হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে মেয়েদের, ‘আমাদের শুধু খেলোয়াড় হলেই হবে না, সামগ্রিকভাবে একজন অ্যাথলেট হতে হবে। একজন হ্যান্ডবল খেলোয়াড়ের যতটুকু ফিটনেস দরকার সেটা থাকা জরুরি।’

আনা ফিটনেসের পাশাপাশি রক্ষণভাগেও উন্নতি করতে হবে বলে মনে করেন ‘রক্ষণভাগ নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। কিছু কৌশল ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে, তা না হলে প্রতিপক্ষকে হারানো কঠিনই হয়ে যাবে। তাই এই টুর্নামেন্টের পর আমাদের সর্বোচ্চ মনোযোগ দলের রক্ষণভাগ ও ফিটনেসে।’ সহকারী কোচ সাবেক হ্যান্ডবল ও ফুটবল খেলোয়াড় ডালিয়া আক্তার বলেন- আমাদের কিছু সমস্যা ছিল সেগুলো আমরা কাটিয়ে উঠেছি এবং নিজেদের অনেক খানি গুছিয়ে নিয়েছি। যেমন নেপালের চেয়ে আমরা ভাল দল কিন্তু একসময় নেপাল বাধা ছিল এই টুর্নামেন্টে আমরা তা কাটিয়ে উঠেছি।

অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি মনে করেন চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও উন্নতি চোখে পড়েছে। গ্রুপ পর্ব ও ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের পার্থক্যেই সেই উন্নতির ছাপ দেখছেন তিনি, ‘আমরা কিন্তু আগের ম্যাচের তুলনায় ভালো করেছি। আসলে যত বেশি ম্যাচ খেলতে পারব তত সবার দক্ষতা বাড়বে। আমরা তো ম্যাচই পাই না।’

৪ জাতির এই টুর্নামেন্টর ৩য় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে গতকাল নেপাল মালদ্বীপকে হারিয়ে তৃতীয়ে হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার খেলার চলতি ধারাবিবরনী সরাসরি সম্প্রচার করে। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ বেতারে ধারাভাষ্য প্রদান করেন- সামসুল ইসলাম, জামিলুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles