দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। সোমবার লন্ডনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিশ্বের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েন বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরোয়ার্ড।
৩৩ বছর বয়সী কেইন ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই সম্মান অর্জন করলেন। সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের তৃতীয় ফুটবলার ব্যালন ডি’অর জিতলেন তিনি। এর আগে স্ট্যানলি ম্যাথিউস (১৯৫৬), ববি চার্লটন (১৯৬৬) এবং কেভিন কিগান (১৯৭৮ ও ১৯৭৯) এই পুরস্কার জিতেছিলেন। এবারের ভোটে দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান পেয়েছেন বার্সেলোনা ও স্পেনের তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল।
গোলের রেকর্ডেই বাজিমাত কেইনের
গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন কেইন। ক্লাবের হয়ে ৫১ ম্যাচে করেছেন ৬১ গোল, যা এক মৌসুমে বায়ার্নের কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলা যোগ করলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৭৩, সঙ্গে রয়েছে আটটি অ্যাসিস্ট।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে এমন ধারাবাহিকতাই তাঁকে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এগিয়ে দিয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত মৌসুমে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাঁর দলকে। অর্থাৎ, ফুটবলের সবচেয়ে বড় দুটি শিরোপার কোনোটিই জিততে না পেরেও ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেলেন ইংলিশ অধিনায়ক।
পুরস্কার জয়ের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে কেইন বলেন, তাঁর এই সাফল্য অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত। এমনকি নিজের কাছেও এত দূর আসার বিষয়টি একসময় অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।
কেইনের ভাষায়, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাঁকে অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। অন্য অনেক তারকার মতো তাঁকে শুরু থেকেই সম্ভাব্য সুপারস্টার হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
প্রশংসায় টুখেল ও প্রিন্স উইলিয়াম
ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল কেইনের এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এই পুরস্কার জয় ইংলিশ অধিনায়কের জন্য বিশাল সম্মানের বিষয়। অন্যদিকে, প্রিন্স উইলিয়াম কেইনকে একজন অসাধারণ অধিনায়ক ও ব্যতিক্রমী খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কেইনের এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদ্যাপন করতে সোমবার রাতে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের বিখ্যাত আর্চগুলো সোনালি আলোয় আলোকিত করা হয়। ব্যালন ডি’অর জয়ের মাধ্যমে বায়ার্ন মিউনিখের ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন কেইন। ১৯৮১ সালে কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগের পর এই প্রথম বায়ার্নের কোনো খেলোয়াড় এই পুরস্কার জিতলেন।
দলীয় শিরোপা ছাড়াও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স যে ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, কেইনের অর্জন তারই প্রমাণ। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, সমালোচনা ও নানা বাধা পেরিয়ে তাঁর এই সাফল্য ইংলিশ ফুটবলের জন্যও এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।




