ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে কেইনের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স

২০২৫-২৬ মৌসুমে গোলের পর গোল করে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে একের পর এক রেকর্ড গড়ে এবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের এই তারকা স্ট্রাইকার। দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও গত মৌসুমে ছিলেন সবার চেয়ে এগিয়ে।

ট্রফির হিসাবে গত মৌসুমে কেইনের অর্জন ছিল দুটি জার্মান শিরোপা। তবে এর আগের মৌসুমে বুন্দেসলিগা জেতার পর এই সাফল্য তাঁর ক্যারিয়ারের মোট শিরোপার সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে তাঁর মৌসুমটি ছিল আরও বেশি স্মরণীয়।

বায়ার্নের জার্সিতে সর্বোচ্চ ৬১ গোল

গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬১ গোল করেছেন কেইন। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে যা ১৯টি বেশি। ১১ বছর আগে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ৬১ গোলের পর এটিই এক মৌসুমে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা।

বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন কেইন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খেলোয়াড়ের চেয়ে ১৭ গোল বেশি করেছিলেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়া বায়ার্নের হয়ে করেন ১৪ গোল।

জার্মান কাপেও দুর্দান্ত ছিলেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। প্রতিযোগিতাটিতে ১০ গোল করার পাশাপাশি ফাইনালে স্টুটগার্টের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। জার্মান সুপার কাপেও একটি গোল করেন কেইন।

বায়ার্নের ইতিহাসে এক মৌসুমে এত গোল আর কোনো খেলোয়াড় করতে পারেননি। অথচ জার্মান ক্লাবটির হয়ে অতীতে গোলের রেকর্ড গড়েছেন গার্ড মুলার, কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে ও রবার্ট লেভানডোভস্কির মতো কিংবদন্তিরা।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৩ গোল

ক্লাবের পাশাপাশি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়েও গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন কেইন। গত মৌসুমে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ১২, যার মধ্যে বিশ্বকাপে করেছেন ছয়টি। সব মিলিয়ে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৭৩-এ।

ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর খেলোয়াড়দের মধ্যে এক মৌসুমে এর চেয়ে বেশি গোল করার কীর্তি রয়েছে কেবল লিওনেল মেসির। ২০১১-১২ মৌসুমে বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার হয়ে ৮২ গোল করেছিলেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।

এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় কেইনের পরেই রয়েছেন গার্ড মুলার (১৯৭২-৭৩ মৌসুমে ৭২ গোল), ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২০১১-১২ ও ২০১৪-১৫ মৌসুমে ৬৬ গোল), ব্রাজিলের সাবেক স্ট্রাইকার রোনালদো (১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে ৬৬ গোল), আর্লিং হলান্ড (২০২২-২৩ মৌসুমে ৬৪ গোল) এবং লুইস সুয়ারেজ (২০১৫-১৬ মৌসুমে ৬৪ গোল)।

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কেইনের পক্ষে কথা বলেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার। বিবিসি স্পোর্টকে তিনি বলেছিলেন, ব্যালন ডি’অর জেতা উচিত হ্যারি কেইনের। বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের হয়ে গত ১২ থেকে ১৮ মাসে কেইনের পারফরম্যান্সকে অসাধারণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইংল্যান্ডের সাবেক আরেক ফুটবলার ড্যানি মারফিও কেইনের গোল করার ধারাবাহিকতা ও পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মৌসুম কাটিয়েছেন কেইন। বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর খুব দ্রুত মানিয়ে নিয়ে গত ১২ মাসে বিশ্বের সেরা সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

কেইনের এই রেকর্ডগড়া মৌসুম প্রমাণ করেছে, দলীয় শিরোপার পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যও ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আর সেই অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবেই ২৫ বছর পর ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলারের হাতে উঠেছে ব্যালন ডি’অর।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles