অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ভারত। ওয়েলিংটনে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিকদের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.২ ওভারে পেরিয়ে যায় ভারত। হাতে ছিল ৪০ বল, আর উইকেট বাকি ছয়টি। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড নিয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দল।
১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর ঝড় বইয়ে দেন ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশী। প্রথম ছয় ওভারেই দুজন মিলে তোলেন ১১৮ রান, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পাওয়ারপ্লেতে রেকর্ড গড়ার মতো এক বিধ্বংসী ব্যাটিং প্রদর্শনী।
মাত্র ৪৩ বলে উদ্বোধনী জুটিতে ১৩৩ রান যোগ করেন অভিষেক ও বৈভব। প্রথম ওভারেই দুই বাঁহাতি ব্যাটার মিলে তোলেন ২৬ রান, যা ভারতের রান তাড়ায় শুরু থেকেই গতি এনে দেয়।
১৯০ বা তার বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম সাফল্য। এর আগে ২০২৪ সালে সাইপ্রাসের বিপক্ষে ১৯৩ রানের লক্ষ্য মাত্র ৪২ বল হাতে রেখে অতিক্রম করেছিল এস্তোনিয়া।
ভারতের জয়ের নায়ক অভিষেক শর্মা খেলেছেন মাত্র ৪৪ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১৩টি ছক্কা, যা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ইনিংসে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এটি অভিষেকের ক্যারিয়ারের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি।
অন্য প্রান্তে বৈভব সূর্যবংশীও ছিলেন দুর্দান্ত। সঞ্জু স্যামসনের পরিবর্তে ওপেন করতে নেমে মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রান করেন তিনি। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভারতের রান তাড়াকে সহজ করে দেয়।
ম্যাচ শেষে অভিষেক বলেন, পাওয়ারপ্লেতে বৈভবের দুর্দান্ত শুরুই তাঁদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাহায্য করেছে। দলের জন্য শুরুতেই গতি এনে দিয়ে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য।
ভারতের সাবেক পেসার ভুবনেশ্বর কুমারও অভিষেকের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই এভাবে ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার জন্য অসাধারণ দক্ষতা প্রয়োজন।
মিচেল-অ্যালেনের ব্যাটে ১৯৮ রান নিউজিল্যান্ডের
এর আগে টসের পর ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৮ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন ড্যারিল মিচেল। ৫২ বলের ইনিংসটি ছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
এ ছাড়া ফিন অ্যালেন করেন ৪০ রান এবং বেভন জ্যাকবস অপরাজিত থাকেন ৩৯ রানে। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বড় সংগ্রহ গড়লেও ভারতের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে তা যথেষ্ট হয়নি।
মাঝের ওভারগুলোতে প্রায় ১০০ রান খরচ করলেও শেষ দিকে বোলারদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন ভুবনেশ্বর। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টিতে বোলারদের জন্য ব্যাটারদের থামানো কঠিন। এ ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ের ধরন সম্পর্কে তথ্য আদান-প্রদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভারতের এমন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। তাঁর মতে, অভিষেক ও বৈভব যখন ছন্দে ছিলেন, তখন তাঁদের থামানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। আইপিএলে এমন ব্যাটিং আগেও দেখা গেছে, এবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও তার সাক্ষী হতে হলো।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ আগামী শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড: ৩য় টি-টোয়েন্টি
নিউজিল্যান্ড: ১৯৮/৩ (২০ ওভার)
- ড্যারিল মিচেল: ৮৯* (৫২)
- ফিন অ্যালেন: ৪০
- বেভন জ্যাকবস: ৩৯*
ভারত: ১৯৯/৪ (১৩.২ ওভার)
- অভিষেক শর্মা: ১১৩ (৪৪)
- বৈভব সূর্যবংশী: ৪৫ (১৯)
ফলাফল: ভারত ৬ উইকেটে জয়ী (৪০ বল হাতে রেখে)।
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ : অভিষেক শর্মা (ভারত)
সিরিজ: ভারত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে।


