আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ আম্পায়ার রিচার্ড কেটলবরো। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার কেপটাউনে চলমান তৃতীয় টেস্টে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে নিজের শততম টেস্ট পরিচালনা করেছেন ৫৩ বছর বয়সী এই আম্পায়ার।
এর মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে ১০০ ম্যাচ পরিচালনার কীর্তি গড়া পঞ্চম আম্পায়ার হলেন কেটলবরো। তাঁর এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

এর আগে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আলিম দার (১৪৫ টেস্ট), স্টিভ বাকনর (১২৮), রুডি কোয়ের্টজেন (১০৮) ও রড টাকার (১০২)। তাঁদের সঙ্গে এবার শততম টেস্ট পরিচালনাকারী আম্পায়ারদের বিশেষ তালিকায় যুক্ত হলেন কেটলবরো।
আইসিসি ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
বিশেষ এই অর্জনের পর কেটলবরো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আইসিসি, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এবং তাঁর সহকর্মীদের প্রতি। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তাঁদের সহযোগিতা ও সমর্থনের কথা স্মরণ করেন তিনি।
কেটলবরো বলেন, আইসিসি ও ইসিবির ধারাবাহিক সমর্থন এবং এমিরেটস আইসিসি এলিট প্যানেলের সহকর্মীদের বন্ধুত্ব ও উৎসাহের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।

প্রয়াত বাবা ও ফুফুর কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুতও হন এই আম্পায়ার। তাঁর বিশ্বাস, তাঁরা বেঁচে থাকলে এই অর্জনে গর্বিত হতেন। সন্তান মিলি, জ্যাক ও আলফি এবং কাছের মানুষদেরও এই মাইলফলকের অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ক্রিকেটে সামনে আরও অনেক ফলপ্রসূ বছর কাটানোর প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন কেটলবরো।
আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিংয়ে দীর্ঘ পথচলা
২০০৯ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়ে আম্পায়ার হিসেবে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় কেটলবরোর। পরের বছর, ২০১০ সালের নভেম্বরে গলে শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে প্রথম টেস্ট পরিচালনা করেন তিনি।
আম্পায়ার হওয়ার আগে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলোয়াড় হিসেবেও পরিচিত ছিলেন কেটলবরো। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত মিডলসেক্স ও ইয়র্কশায়ারের হয়ে ৩৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন তিনি।
২০০৬ সালে ইসিবির আম্পায়ার প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হন কেটলবরো। এরপর ২০১১ সালের মে মাসে এমিরেটস আইসিসি এলিট প্যানেলে জায়গা পান। সে সময় প্যানেলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন তিনি।
টেস্টে শততম ম্যাচ পরিচালনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যান্য সংস্করণেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এখন পর্যন্ত তিনি ১১৪টি ওয়ানডে আন্তর্জাতিক, ৪৬টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক, চারটি নারী ওয়ানডে ও চারটি নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্বমঞ্চেও কেটলবরোর অভিজ্ঞতা
আইসিসির বিভিন্ন বড় টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন কেটলবরো। পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ২০১১, ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩ আসরে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১৫ ও ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালেও ছিলেন আম্পায়ার হিসেবে।
এ ছাড়া পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ২০১২, ২০১৪, ২০১৬, ২০২১, ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ আসরে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ ও ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালেও আম্পায়ার ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের ফাইনালে দায়িত্ব পালন করেন টিভি আম্পায়ার হিসেবে।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ২০১৩, ২০১৭ ও ২০২৫ আসরেও দায়িত্ব পালন করেছেন কেটলবরো। ২০১৭ সালের ফাইনালেও ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ২০২১ ও ২০২৩ সালের আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতার পর টেস্টে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে শততম ম্যাচ পরিচালনা কেটলবরোর ক্যারিয়ারে এক উল্লেখযোগ্য অর্জন। তাঁর এই মাইলফলক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাদারত্বের আরেকটি স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


