বিশ্বজুড়ে ১০ লাখ ক্রিকেটার, ১ নভেম্বর পালিত হবে বিশেষ দিবস

বিশ্বজুড়ে ১০ লাখ ক্রিকেটার যুক্ত হওয়ায় ১ নভেম্বর বিশেষ দিবস পালন করতে যাচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল, আইসিসি। বিশ্বজুড়ে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটের প্রসার ও নতুন প্রজন্মকে খেলাটির সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। ‘ক্রিইও’ (criiio) কর্মসূচির আওতায় বিশ্বব্যাপী এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ খেলোয়াড় যুক্ত হওয়ার মাইলফলক উদযাপনে আগামী ১ নভেম্বর থেকে প্রতিবছর পালিত হবে ‘ক্রিইও ডে’।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি। ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা এই কর্মসূচির মাধ্যমে ক্রিকেটকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সংস্থাটি। বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য এবং ১৮টি ভাষায় উপলব্ধ এই কর্মসূচির মাধ্যমে নতুনদের ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

‘যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়, যে কেউ’, এই দর্শনকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে ক্রিইও কর্মসূচি। এর মূল লক্ষ্য হলো ক্রিকেটকে সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং বয়স, লিঙ্গ কিংবা ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে খেলাটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা।

আইসিসির এই বৈশ্বিক কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়া ১০ লাখতম খেলোয়াড় নাইজেরিয়ার ১৩ বছর বয়সী সাইদাত হামজাত। দেশটির লাগোস রাজ্যের বাসিন্দা সাইদাত শুরুতে ক্রিকেট সম্পর্কে তেমন কিছু জানতেন না। তবে তার স্কুলে ক্রিইও ক্রিকেট উৎসব আয়োজনের পর খেলাটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।

ক্রিকেট তার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে জানিয়ে সাইদাত বলেন, ক্রিকেট তাকে লক্ষ্য, শৃঙ্খলা ও আনন্দের সন্ধান দিয়েছে। খেলাটি তার জীবন বদলে দিয়েছে। এখন তিনি আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং স্কুলে বন্ধুরা তাকে ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবেই চেনে।

সাইদাতের মাও মেয়ের পরিবর্তনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর মেয়েকে আরও হাসিখুশি দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে নাইজেরিয়ার জার্সিতে মেয়েকে খেলতে দেখার স্বপ্নও দেখেন তিনি।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্ত বলেন, মাত্র পাঁচ বছরে ক্রিইও কর্মসূচি যে প্রভাব তৈরি করেছে, তাতে তারা গর্বিত। খেলাধুলার মাধ্যমে সমাজকে একত্র করা এবং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, ক্রিকেটকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রবেশের বাধা দূর করা জরুরি। এক মিলিয়ন অংশগ্রহণকারীর মাইলফলক প্রমাণ করে, সদস্য দেশ, অংশীদার ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসার ঘটানো সম্ভব।

২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের মধ্যে খেলাটির জনপ্রিয়তা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ক্রিইও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে আইসিসি।

বর্তমানে আইসিসির ৬৫টি সহযোগী সদস্য দেশ জাতীয় পর্যায়ে এই কর্মসূচি পরিচালনা করছে। পাশাপাশি আইসিসির ১২টি পূর্ণ সদস্য দেশের প্রতিটিতেই রয়েছেন প্রশিক্ষিত ক্রিইও প্রশিক্ষক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নারী ও পুরুষের অনুপাত ৫০:৫০।

মহাদেশভিত্তিক হিসাবে আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি ৪ লাখের বেশি মানুষ ক্রিইও কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। দেশ হিসেবে ব্রাজিল সবার শীর্ষে, যেখানে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। অন্যদিকে ভুটানে এই সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ।

তানজানিয়ায় স্থানীয় ভাষা সোয়াহিলিতে ‘চানজো ক্রিকেট’ নামে কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছে। উদ্যোগটির সাফল্যের কারণে দেশটির সরকার ৩ হাজার ৫৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্রিকেটকে অগ্রাধিকারমূলক খেলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ ছাড়া জাপানে টোকিও স্কাইট্রির নিচে প্যাডেল কোর্টে, মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটর থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দূরের বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে এবং চিলিতে অভিবাসী শিশুদের নিয়ে পরিচালিত কর্মসূচির মাধ্যমে ক্রিকেট ছড়িয়ে দিচ্ছে আইসিসি।

ক্রিইও কর্মসূচি থেকে উঠে আসছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়রাও। আর্জেন্টিনার ১৪ বছর বয়সী লুনা অলিভেরা ২০২৩ সালে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ক্রিকেটে যুক্ত হয়ে ২০২৬ সালে দেশটির অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলে সুযোগ পেয়েছেন। একইভাবে নাইজেরিয়ার চিসোম মেরি ওকপে ২০২৫ সালে স্কুলের ক্রিইও সেশনের মাধ্যমে ক্রিকেটে হাতেখড়ি নিয়ে দ্রুত উন্নতি করে দেশটির অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা করে নিয়েছেন।

ক্রিইও কর্মসূচির আওতায় বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫ হাজার ক্রিকেট সেট বিতরণেও সহযোগিতা করেছে আইসিসির বৈশ্বিক লজিস্টিকস পার্টনার ডিপি ওয়ার্ল্ড।

আগামী ১ নভেম্বর প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হবে ‘ক্রিইও ডে’। তারিখটি ১.১১ হওয়ায় ক্রিইও নামের তিনটি ‘আই’-এর প্রতীকী তাৎপর্যের সঙ্গেও এর মিল রয়েছে। ক্রিকেটের স্টাম্প ও বেলসের আদলে তৈরি এই তিনটি ‘আই’ কর্মসূচিটির পরিচিতির অংশ।

প্রথমবারের আয়োজনটি বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল প্রচারণার মাধ্যমে উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে আইসিসির সদস্য দেশগুলোকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প শেয়ার করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। প্রচারণার হ্যাশট্যাগ রাখা হয়েছে #criiioDay।

১০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণের এই মাইলফলককে সামনে রেখে আইসিসির প্রত্যাশা, ক্রিইও ডে বিশ্বজুড়ে আরও নতুন মানুষকে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত করতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাটির ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles