টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন মোহাম্মদ শামি

ভারতের টেস্ট দলে ফেরার অপেক্ষার অবসান ঘটল মোহাম্মদ শামির। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা অভিজ্ঞ এই পেসার শেষ পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সাদা বলের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

২০১৩ সালের নভেম্বরে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল শামির। অভিষেকেই নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছিলেন তিনি। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ১১৮ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৯ উইকেট। এখনো সেটিই টেস্ট ক্যারিয়ারে তাঁর সেরা বোলিং। বিশেষ করে রিভার্স সুইংয়ে তাঁর দুর্দান্ত বোলিং ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল।

অভিষেকের ১৩ বছর পূর্তির দিনেই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন শামি। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

বিদায়ী বার্তায় শামি লিখেছেন, ‘এই ১৩ বছরের যাত্রায় এই ক্যাপ আর বলই আমাকে মোহাম্মদ শামি হিসেবে গড়ে তুলেছে। অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পড়েছি, আঘাত পেয়েছি, চোটে পড়েছি; কিন্তু এই ব্যাজের সম্মানের জন্য প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এই যাত্রা ছিল অসাধারণ।’

নিজের কোচ, ট্রেনার, ফিজিও ও নেপথ্যে থাকা সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শামি। বিশেষ ধন্যবাদ দিয়েছেন ভক্তদেরও। তাঁর ভাষায়, ক্রিকেটপ্রেমীদের ভালোবাসা ও সমর্থন তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ালেও ক্রিকেট ছাড়ছেন না শামি। সাদা বলের ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। আইপিএল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। ফিটনেস ভালো থাকলে দীর্ঘ সংস্করণের ঘরোয়া ক্রিকেটেও দেখা যেতে পারে তাঁকে। তবে আন্তর্জাতিক টেস্টে আর ফিরবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন এই পেসার।

ভারতের হয়ে শামির সর্বশেষ টেস্ট ছিল ২০২৩ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। ৬৪ টেস্টে ২৭.৭১ গড়ে তাঁর শিকার ২২৯ উইকেট। ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন ছয়বার।

জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ খেলেছেন ২০২৫ সালের মার্চে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ওই টুর্নামেন্টে ভারুন চক্রবর্তীর সঙ্গে যৌথভাবে ভারতের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন তিনি।

জাতীয় দলে ফেরার অপেক্ষায় থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন শামি। গত রঞ্জি ট্রফিতে বেঙ্গলের সেমিফাইনালে ওঠার পথে বড় অবদান ছিল তাঁর। সাত ম্যাচে ১৬.৭২ গড়ে নিয়েছিলেন ৩৭ উইকেট। ছিলেন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।

চলতি রঞ্জি ট্রফিতেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই পেসার। দিল্লির বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে চার উইকেটসহ পুরো ম্যাচে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলের দরজা তাঁর জন্য খোলেনি। এ নিয়ে কখনো হতাশা প্রকাশ করেছেন, আবার কখনো ফিরতে চাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন।

তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার ইতি টানলেন শামি নিজেই। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে ১৩ বছরের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল তাঁর।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles