এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী ছিল ফ্রান্স। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের সামনে যেন নিজেদের ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছিল দিদিয়ের দেশমের দল। ডালাসে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লা রোজা-রা।
ম্যাচের শুরুতে আক্রমণে ছিল ফ্রান্স। ১৪ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে দুর্দান্ত গতিতে স্প্যানিশ বক্সে ঢুকে পড়লেও কুবারসি ও লাপোর্তের নিখুঁত রক্ষণে থেমে যায় সেই আক্রমণ।
এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় স্পেন। বক্সে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করেন লুকা দিনিয়ে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পেনের হয়ে স্পট কিক নিতে আসেন মিকেল ওয়ারজাবাল। ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাগনিয়ঁ সঠিক দিক অনুমান করলেও তার নাগালের বাইরে দিয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে। ২৩ মিনিটেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।
গোল হজমের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও বড় বিপদে পড়ে ফ্রান্স। ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন দলের অন্যতম ভরসা উইলিয়াম সালিবা। বাধ্য হয়ে রক্ষণে পরিবর্তন আনেন কোচ দিদিয়ের দেশম।
প্রথমার্ধের বাকি সময়েও স্পেনই ছিল বেশি আত্মবিশ্বাসী। ওলমো, ইয়ামাল ও বায়েনার দ্রুত পাসিংয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও ব্যবধান আর বাড়েনি। ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও বদলায়নি ম্যাচের চিত্র। ৫৮ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দানি ওলমো ও পেদ্রো পোরোর দারুণ বোঝাপড়ায় আসে দ্বিতীয় গোল। মাগনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন পোরো। এর তিন মিনিট পর ইয়ামাল বল জড়িয়েছিলেন জালে। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।
শেষ ২০ মিনিটে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। এমবাপ্পে, হার্নান্দেজ, বারকোলা – সবাই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন এবং ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া ছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর। এমবাপ্পের একের পর এক শট ব্যর্থ করে স্পেন নিশ্চিত করে তাদের ফাইনালের টিকিট।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠে স্পেন। ২-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল লা রোজা। এখন তাদের সামনে একটাই লক্ষ্য, ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরা। শেষ প্রশ্ন একটাই, স্পেন কি আবার বিশ্বসেরা হতে পারবে?


