হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানে বাংলাদেশের রক্ষা, লিড ৩০ রানের!

বাংলাদেশে-উইন্ডিজ সিলেট টেস্ট

সিলেট টেস্টে হৃদয়ের কি খেলার কথা ছিল? আগের দুই টেস্টে হৃদয় কি দলে থাকার মত ব্যাট করেছিলেন? ঢাকা টেস্টে হৃদয় কি দায়িত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন? এতসব প্রশ্নের উত্তর হল না! তাহলে কিভাবে সিলেট টেস্টে জায়গা পেলেন? হৃদয় কি মুমিনুলকে ট্রিট বা ধন্যবাদ দিবেন? এবার মনে হয় উত্তরটা হ্যাঁ হবে, কারণ মুমিনুলের জায়গায় যে সিলেট টেস্টে খেলার সুযোগ পেয়েছেন হৃদয়। ঢাকা টেস্টে মুশফিকের বদলি হিসেবে খেলে করেছিলেন ৪২ রান এবার সিলেটে করলেন তার থেকেও ২০০ রান বেশি, অপরাজিত ২৪২ রান। আর তাতে দলের বিপদ সামলে যেমন রক্ষা করলেন তেমনি নিজেও ছাড়িয়ে গেলেন তার সতীর্থ সব সিনিয়র মুশফিক, সাকিব আর তামিমদের মত ব্যাটারদের।

সেঞ্চুরির পর তাওহীদ হৃদয়ের উদযাপন

টেস্ট ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিম ৩ বার ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২টি এবং একটি শ্রীলংকার বিপক্ষে, তাঁর একটা সর্বোচ্চ রানের ডাবল হল অপরাজিত ২১৯ রান আবার সাকিব আল হাসান করেছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রান আর তামিম ইকবাল খুলনাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে একবার ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। আর হৃদয় ৪র্থ বাংলাদেশী হিসেবে দেশের হয়ে ৬ষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরি করলেন উইন্ডিজের বিপক্ষে শুধু করলেনই না হৃদয় সবাইকে ছাপিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টেই বাংলাদেশের আগের ৫টি ডাবল সেঞ্চুরিকে ছাড়িয়ে গেলেন! আগের ২ টেস্টে কোন হাফ সেঞ্চুরি ছিলনা তার, সিলেটে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরিকে তিনি আজ সেঞ্চুরিতে রুপ দিলেন তারপর সেঞ্চুরিকে রুপ দিলেন ডাবল সেঞ্চুরিতে, শুধু ডাবল সেঞ্চুরিই করেননি যেভাবে টেল-এন্টারদের নিয়ে সংগ্রাম করেছেন তা সত্যিই তুলনাহীন।

হৃদয়ের ইনিংসের গুরুত্ব বুঝতে হলে ৮ম এবং ৯ম জুটির দিকে তাকাতে হবে। ৮ম উইকেট জুটিতে তাইজুলকে নিয়ে তিনি ১৬৭ বল খেলে ১১৭ রান করেছেন যার মধ্যে ১১১টি বল হৃদয় খেলেছেন আর তাইজুল ৫৬টি, হৃদয় করেছেন ৯২ রান তাইজুল ২২ রান। আবার তাসকিনকে নিয়ে ৯ম উইকেট জুটিতেও অতি-মানবীয় দৃঢ়তা দেখিয়েছেন হৃদয়। এবার তাসকিনের সাথে ৮৫ রানের জুটি গড়লেন ১২১ বলে। নিজে ৯৩ বল খেলে ৬৯ রান করলেন আর তাসকিন ২৮ বলে ১২ রান। বোলারদের নিয়ে হৃদয়ের ইনিংসে শুধু ইনিংস বললে ভুল হবে তাঁর এই ইনিংসের কথা আসলেই সবার আগে বলতে হবে সংগ্রামী ইনিংস। ৫১ রানে গতকাল ৩ উইকেট হারানোর পর তিনি এসে যেভাবে সবাইকে নিয়ে মানিয়ে নিয়েছেন তা টেস্ট ক্রিকেটের টেম্পামেন্টকে মনে করিয়ে দেয় আসলেই তো টেস্ট মেজাজ তো এমনই হওয়া উচিৎ।

হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানে বাংলাদেশের রক্ষা, লিড ৩০ রানের!
তাওহীদ হৃদয়ের উদযাপনে ছিল মানসিক দৃঢ়তা

৩ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৩য় উইকেট জুটিতে অধিনায়ক শান্তকে নিয়ে করেছেন ২৯ রান আবার ৪র্থ উইকেট জুটিতে মুশফিককে নিয়ে করেছেন ৭৩ রান অন্যদিকে ৫ম উইকেট জুটিতে লিটনের সাথে ১৪ রানের পর ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৪১ রানের জুটি গড়েছেন মিরাজের সাথে শুধু ৭ম উইকেট জুটিতে হাসান মাহমুদের সাথে জুটিতে এক সংখ্যার ৫ রান করেছেন এরপরই সবচেয় বড় জুটি তাইজুলের সাথে ১১৭ রানের, ২য় সর্বোচ্চ বড় জুটি তাসকিনের সাথে আর ৩য় সর্বোচ্চ বড় জুটি মুশফিকের সাথে ৭৩ রানের।

এইতো কিছুদিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে হৃদয় করেছিলেন অপরাজিত ৩৫০ রান যা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অ্যাওয়ে ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড! সিলেট টেস্টে ব্যাকফুটে থাকতে থাকতে হৃদয়ের ২৪২ রানে ভর করেই তো বাংলাদেশে উইন্ডিজের ৩৫৬ রান টপকে করেছে ৩৮৬ আর তাতেই ৩য় দিন শেষে ৩০ রানের এগিয়ে থেকে প্রথম ইনিংস শেষ করেছে বাংলাদেশ তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে তুলতে মনস্তাত্বিক লড়াইয়ে এগিয়ে থেকে।

ছক্কায় এগিয়ে তাওহীদ হৃদয়: হৃদয় তার অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংস খেলেছেন ৩৫৯ বলে যাতে  চার ছিল ২২টি আর ছক্কা ছিল ১১টি যা বাংলাদেশী হয়ে ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড! ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংসে তামিম সর্বোচ্চ ৭টি ছক্কা হাকিয়ে ছিলেন আর এতদিন সেটাই ছিল সর্বোচ্চ ছক্কার টেস্ট ইনিংস।

হৃদয় কি দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছেন? হৃদয় মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অপরাজিত ৩৫০ রানের পর যখন আন্তর্জাতিক টেস্টে ২৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন সেই হৃদয়কে কি আর টেস্ট ক্রিকেট থেকে আপনি দুরে রাখতে পারবেন? তিনি তো ৩৫০ রান করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতেই তাই আমার মনে হয় হৃদয়কে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট দলের বাইরে রাখার সাহস হয়তো দেখাতে পারবেন না নির্বাচক প্যানেল। তার আগে ২য় হৃদয়ের ২য় ইনিংসটার দিকেও একটু নজর রাখতে চাই সেই সাথে টেস্টের ফলাফলের দিকেও।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles