হৃদয়-তাইজুলের বীরত্বে ৩০ রানের লিড বাংলাদেশের

ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয় ও তাইজুল ইসলামের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকেরা। হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিনের সংগ্রহের সঙ্গে রান যোগ করতে থাকেন তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। তবে ৭৩ রানের জুটি ভাঙে মুশফিকের বিদায়ে। জোমেল ওয়ারিকানের বলে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ রান করে ফেরেন তিনি।

এরপর দ্রুত বিদায় নেন লিটন দাস। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে ওয়ারিকানের বলেই কাভারে ক্যাচ দেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। ৪১ রানের জুটি গড়ে থামে হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজের লড়াইও। রোস্টন চেজের বলে ক্যাচ দিয়ে ১৬ রান করে ফেরেন মিরাজ। এরপর হাসান মাহমুদের বিদায়ে ১৮৪ রানেই সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তখনো ১৭২ রানে এগিয়ে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এমন পরিস্থিতিতে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন হৃদয়। অষ্টম উইকেটে দুজনের ব্যাটে আসে গুরুত্বপূর্ণ ১১৭ রান। ৫৬ বলে ২২ রান করে তাইজুল আউট হলেও থামেননি হৃদয়। তাসকিন আহমেদকে নিয়ে নবম উইকেটে যোগ করেন আরও ৮৫ রান।

এই পথেই ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন হৃদয়। ৩০৪ বলে পূর্ণ করেন দ্বিশতক। শেষ পর্যন্ত ৩৫৯ বলে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাসকিন ২৯ বলে ১২ রান করে আউট হলে সাদমান ইসলাম চোটের কারণে ব্যাটিংয়ে নামতে না পারায় ৩৮৬ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৩৫৬ রান। ফলে ৩০ রানের লিড নিয়ে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৪ ওভারে ৭/০ (কিং ৫, সিলভা ২; তাসকিন ০/৭, হাসান ০/০, তাইজুল ০/০)।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১১১.৫ ওভারে ৩৮৬ (হৃদয় ২৪২*, মুশফিক ৩৪, তাইজুল ২২, নাজমুল ১৮, মিরাজ ১৬, তানজিদ ১৬, তাসকিন ১২, লিটন ৮; ওয়ারিক্যান ৪/১০৪, সিলস ২/৫৮, চেজ ১/৬৬, জোসেফ ১/৮২,গ্রিভস ১/১০)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৩৫৬।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles